বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

গাফফারের বিরুদ্ধে আন্দোলন নিয়ে হেফাজতে মতবিরোধ

Gaffar_hefajatসাংবাদিক গাফফার চৌধুরীর বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন নিয়ে মৌলবাদী গোষ্ঠী হেফাজতে ইসলাম আবার দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে আগামী ১৪ ডিসেম্বর সমাবেশের ঢাকা মহানগরীতে দুই অফিস এবং ইফতার মাহফিল নিয়েও চলছে মতদ্বৈততা।

সূত্রমতে, হেফাজতের মধ্যে রাজনৈতিক দলের নেতাদের চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে মাদ্রাসার অরাজনৈতিক শিক্ষকরা। যার ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা হেফাজতের নেতৃত্ব ঘিরে জড়িয়ে পড়েছেন বিরোধে। এতে সংগঠনটির ব্যাপারে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ক্রমান্বয়ে কমছে। হেফাজতের নেতৃত্বে যেমন মাদ্রাসার শিক্ষকরা আছেন, তেমনি আছেন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতারা। মূলত বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে হেফাজতকে মাঠে নামতে আগ্রহী রাজনৈতিক নেতারা। এ জন্য রমজানে ইফতার মাহফিলসহ বিভিন্ন ইস্যুতে হেফাজতের সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছেন।

হেফাজতে ইসলামীর নেতৃত্বে আছে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটভুক্ত ইসলামী ঐক্যজোটের খেলাফত ইসলামী, নেজাম ইসলাম ও ওলামা কমিটি বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতারা। এছাড়া, ১৮ দলীয় জোটের বাইরে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারা আছেন।

এদিকে, এ সব রাজনৈতিক দলের নেতারা হেফাজতের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে নিজেদের মধ্যেই জড়িয়ে পড়ছেন শীতল বিরোধে। ফলে তাদের মধ্যে ভবিষ্যতে হেফাজতের কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়েও সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। হেফাজতের কর্মকান্ডের সংবাদ গণমাধ্যমেও পাঠানো নিয়ে নেই কোনো সমন্বয়। যখন যার ইচ্ছে মতো বিবৃতি ও সংবাদ সম্মেলন করে থাকেন।

৩ জুলাই রাজধানীর বারিধারায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও হেফাজতের ঢাকা আহ্বায়ক মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী সাংবাদিকদের ১৪ ডিসেম্বরের সমাবেশ নিয়ে কথা বলেন। তার এই সংবাদ সম্মেলনের পর ওইদিন বিকেলে ইসলামী ঐক্য জোটের যুগ্ম মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর প্রচার সেলের প্রধান মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াছেল হেফাজতের সমাবেশ সফল করা নিয়ে নিজ দলের হেফাজত নেতাদের একটি বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠান। ২ জুলাই শনিবারও ওয়াছেল উপস্থিত ছিলেন না নূর হোসাইন কাসেমীর সংবাদ সম্মেলনে।

হেফাজতের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, হেফাজতে ইসলামীর বারিধারার কার্যক্রম সম্পর্কে আমি কিছু জানি না, কারণ আমাকে কেউ কিছু জানায় না। আমি জানি ঢাকায় হেফাজতের কার্যক্রম লালবাগ থেকে পরিচালিত হয়, কিন্তু বাবিধারা থেকে পরিচালিত হয় কিনা জানি না।

ইসলামী ঐক্য জোটের যুগ্ম মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর প্রচার সেলের প্রধান মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াছেল বলেন, আমি ঢাকার হেফাজতে ইসলামের প্রচার সেলের প্রধান। মূল দায়িত্ব আমার হলেও নূর হোসাইন কাসেমী সাহেব আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। যার ফলে আমি বারিধারা ভিত্তিক হেফাজতের কার্যক্রম সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। তিনি বলেন, হেফাজতের ঢাকার কার্যালয় লালবাগে।

হেফাজত সূত্রে জানা গেছে, মামলা গ্রেপ্তারের ভয়ে মাঠে নামতে নারাজ হেফাজতের অরাজনৈতিক নেতারা। ফলে ঘোষণা দিয়ে বারবার স্থগিত হচ্ছে কর্মসূচি। এদিকে রাজনৈতিক দলের হেফাজত নেতারা আল্লামা শফীকে চাপ দিচ্ছেন আবার ঢাকায় সমাবেশের করতে। তবে কোনো মতেই সমাবেশ করতে আগ্রহী নয় আল্লামা শফীসহ হেফাজতের শীর্ষ নেতারা। এছাড়া এই মুহূর্তে সমাবেশ ডাকা হলে বিএনপি-জামায়াত রাজনৈতিক সুবিধা নেবে বলেও হেফাজতের শীর্ষ নেতারা।

হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর সদস্য সচিব মাওলানা জুনাইদ আল হাবিবেব পি এ শামীম কবির বলেন, আগে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর অফিস লালবাগে থাকলেও এখন অফিস রাজধানীর বারিধারায়। যার ফলে বর্তমানে সংগঠনটির সমস্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম এখন বারিধারা থেকে পরিচালিত হচ্ছে ।

হেফাজতের সূত্র জানায়, সম্প্রতি হাটহাজারীতে রাজধানীর শাপলা চত্বরের সমাবেশের ব্যাপারে হেফাজত নেতাদের একটি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় রাজনীতি করেন এমন কয়েকজন শীর্ষনেতা আল্লামা শফীকে মামলা গ্রেপ্তারের কারণ দেখিয়ে সমাবেশ বাতিল করার পরামর্শ দেন।

কিন্তু ১৮ দলীয় জোটভুক্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও হেফাজতের ঢাকা আহ্বায়ক মাওলানা নূর হোসাইন কাশেমীসহ ঢাকার রাজনৈতিক নেতারা সমাবেশ করতে আল্লামা শফীকে পাল্টা চাপ দেন। তবে চট্টগ্রাম হেফাজত সূত্রে জানা গেছে আল্লামা শফী ঢাকায় সমাবেশে আসবেন না।

এ বিষয়ে মাওলানা কাশেমী বলেন, আমাদের কর্মসূচি ১৩ দফা দাবি আদায়ের জন্য। সরকারের পতনের জন্য নয়। এছাড়া দেশের শাস্তি কামনা করে দোয়া করা হবে। সমাবেশে আল্লামা শফী উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন। তবে তিনি অসুস্থ, এ কারণে না আসতে পারলে কিছু করার নেই।

মূলত রাজনৈতিক দলের হেফাজত নেতাদের তৎপরতায় চট্টগ্রামের কমিটিতেও তৈরি হয়েছে বিভাজন। গত ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর ‘শানে রেসালাত সম্মেলন’ ও ১৪ ডিসেম্বর বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ১৫ ডিসেম্বর হরতাল কর্মসূচি নিয়ে এ বিভাজন স্পষ্ট হয়।

হেফাজত ও ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মাঈনুদ্দিন রুহী বলেন, এসব কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্তে বিষয়টি আমিসহ আরও অনেকে অবগত ছিলেন না, আমরা পরে জেনেছি।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, আমরা তো দাঙ্গা-হাঙ্গামা চাই না। যে কারণে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন