বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টের বাইরে থাকা বিরোধীদল বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ওমরাহ’র জন্য সৌদি আরব যাওয়া বাতিলের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু সমীকরণ। হঠাৎ করেই বাতিল হলেও এর পেছনে রয়েছে মূলত কয়েকজন নেতার দলবিরোধী সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড এবং বিমানবন্দরে দলের নেতাদের গ্রেফতার আতঙ্ক। লন্ডন থেকে তারেক রহমানের সৌদি যাওয়াও যেমন এতে বন্ধ হয়, তেমনি মালয়েশিয়া থেকে প্রয়াত আরাফাত রহমানের স্ত্রী ও কন্যারাও বিমানবন্দরে রওনা হয়ে আবারও ফেরত গেছেন।
সৌদি রাজপরিবারের অতিথি হিসেবে প্রতিবছরের মতো এবারও রমজান মাসে তার ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার বিএনপির তরফ থেকে জানানো হয়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সুবিধাজনক সময়ে তিনি ওমরাহ করবেন।
বুধবার ৮ জুলাই সন্ধ্যার পর এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেয়ার সার্বিক প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছিল। সৌদি আরবেও খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গীদের আবাসন ও যাতায়াতের প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাতে আকস্মিকভাবে সফর স্থগিত করা হয়। কিন্তু কেন?
সূত্রের খবর, সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে খালেদা জিয়ার সফর স্থগিত করা হয়েছে। দলের নেতাদের একটি বড় অংশ কারাগারে থাকা ও কিছু নেতার অন্য তৎপরতা বিবেচনা করে খালেদা জিয়া এ সিদ্ধান্ত নেন। তবে ঈদের পর তিনি সৌদি যেতে পারেন। সৌদি কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয় সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন দুবাই হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল। একইভাবে যুক্তরাজ্য থেকে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্ত্রী-কন্যা এবং মালয়েশিয়া থেকে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী-কন্যা দুবাই থেকে খালেদা জিয়ার সফর সঙ্গী হওয়ার কথা ছিল। রাজকীয় মেহমান হিসেবে ১৩ জনের ভিসাও সংগ্রহ করা হয়। সে অনুযায়ী বিমান টিকিট বুকিংসহ অন্যান্য প্রস্তুতি সারা হয়েছিল। অগ্রবর্তী একটি দল ইতিমধ্যে সৌদি আরবও পৌঁছেছেন।
সূত্র জানায়, এবার খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ থেকে তার দুই ছোটভাইয়ের স্ত্রী, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত এনামুল হক চৌধুরী, ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী নূরউদ্দিন নূরু ও তার গৃহকর্মী ভিসা পেয়েছেন। অন্যদিকে দলের দুইজন সিনিয়র নেতা ভিসা পেয়ে ইতিমধ্যে সৌদি আরব পৌঁছেছেন।
তবে বাংলাদেশের কয়েকটি ঘটনা এতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার নিয়মিত সফরসঙ্গীদের মধ্যে তার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের বিরুদ্ধে একটি মামলায় চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। ফলে তাদের ইমিগ্রেশনে গ্রেপ্তারের একটি আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়াও দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হওয়ার কথা থাকলেও মামলা জটিলতার কারণে তারা যেতে পারছেন না।
এছাড়া মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে পুলিশ। এরপরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে বার্তা দেয়া হয়েছে- সৌদি আরব যাওয়ার পথে তার সফরসঙ্গীদের কাউকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। এছাড়া তিনি সৌদি আরব যাওয়ার পর হঠাৎ করেই একটি গ্রেপ্তার অভিযান চালাতে পারে সরকার। সেই সঙ্গে ফেরার পথে তাকে বাধা দেয়া হতে পারে। এই সময়ে দল ভাঙনের একটি কৌশল বাস্তবায়নের অপচেষ্টা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাতে সৌদি সফরের বিষয়টি স্থগিত বা বাতিল করা হয়।
সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে যোগ দেয়ার জন্য যুক্তরাজ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিলেন তারেক রহমান। কিন্তু ঢাকা থেকে বার্তা না পেয়ে তার টিকিট ওপেন করা হয়। যাতে যে কোন সময় তিনি ভ্রমণ করতে পারেন।
অন্যদিকে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও কন্যারা সৌদি আরব যাওয়ার জন্য দুবাই’র উদ্দেশে মঙ্গলবার রাতে বিমানবন্দরে রওনা দিয়েছিলেন। পথেই তিনি ঢাকা থেকে বার্তা পাওয়ার পর বাসায় ফিরে যান তিনি।
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


