সরকারের মেয়াদে একদিনও মন্ত্রণালয়ে অফিস না করাসহ একনেকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে না যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে অপসারণের গুঞ্জন মঙ্গলবার জোরালো হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ওনাকে সরিয়ে দিয়ে অ্যাকটিভ কোনো মন্ত্রী আনতে হবে! এরপরই গুঞ্জনের ডালপালা ছড়িয়ে যায়। আশরাফ নিজেও নাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন পদত্যাগ পত্র নিয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত দলের সাধারণ সম্পাদককে আর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে শুধু দফতরবিহীন মন্ত্রী করা হয়নি। গুঞ্জনের মধ্যেই মঙ্গলবার তিনি যান নিজ এলাকা কিশোরগঞ্জে। সেদিন তিনি নিজেও অবশ্য বেশি কথা বলতে চাননি। তবে একদিন পর বুধবার সরব হয়েছেন। এলাকায় একটি সমাবেশে দিয়েছেন দীর্ঘ বক্তৃতা।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচন বর্জন করলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বুধবার কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সদর উপজেলার ১১ ইউনিয়নের কার্যকরী কমিটির সদস্যদের পরিচিতি সভায় বক্তব্য দেন তিনি।
সৈয়দ আশরাফ কিশোরগঞ্জের উন্নয়ন ও রাজনীতি নিয়ে অনেক কথা বললেও তাঁকে নিয়ে সারা দেশে চলা আলোচনার বিষয়ে কিছু বলেননি। তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রশংসা করেন এবং বিএনপির সমালোচনা করেন।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন বয়কট গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অংশ হতে পারে না। নির্বাচনে অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের শুরু। আর তাই আওয়ামী লীগ কখনো নির্বাচন বয়কটে বিশ্বাসী নয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন একবার ছাড়া আওয়ামী লীগ আর কখনো নির্বাচন বয়কট করেনি। অথচ খালেদা জিয়া নির্বাচনে গেলেন না।
সংবিধান পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘ভবিষ্যতে নির্বাচন হবে এবং বর্তমান সংবিধানের অধীনে উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে হবে। সবার অংশ গ্রহণে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দিয়ে সরকারও গঠন হবে। সেইেÿক্ষেত্রে খালেদা জিয়া যদি আগের মতো এবারও নির্বাচনে অংশ না নেন, তাহলে এই দেশে বিএনপির অস্তিত্ব থাকবে না।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। গণতন্ত্র রক্ষা ও উন্নয়ন শেখ হাসিনার ভিশন।
চীনের চাঙা অর্থনীতির প্রশংসা করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, চীন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা অর্থনীতির দেশ। আগামী বিশ বছরের মধ্যে চীন হবে বিশ্বের এক নম্বর শক্তিশালী দেশ। যদিও বাংলাদেশ ও চীনের রাজনীতি এক না। চীন একনায়কতন্ত্রের হলেও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কিশোরগঞ্জের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার বিষয়ে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার প্রশংসা করেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমার ক্ষমতা অনুযায়ী এই জেলার উন্নয়ন করে যাব। কিশোরগঞ্জে নরসুন্দা নদ খনন প্রকল্পের বিষয়ে বলেন, নরসুন্দা মৃত নদ। বর্তমানে খননের মাধ্যমে প্রাণ ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এক সময় এই নদ ব্যবহার করে অন্য উপজেলার মানুষ পাল তোলা নৌকায় করে শহরে আসতে পারতো। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আগের সময় ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে এই পরিচিতি সভায় আরও বক্তব্য দেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শরীফ সাদি ও সদর উপজেলার কর্শাকরিয়াল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শহীদুল ইসলাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক জিল্লুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম. এ আফজাল ও সহসভাপতি কামরুল আহসান।
সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


