বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মৃত্যুর পরও ফেলানীকে ঝুলিয়ে রাখার বিচার চাইবে এ্যামনেস্টি ইন্ডিয়া

Felani_borderঅবৈধভাবে দালালের মাধ্যমে সীমান্ত পেরোনোর সময় বিএসএফের গুলিতে মৃত্যুর পর বাংলাদেশি ফেলানীকে ঝুলিয়ে রেখে মানবাধিকার হরণ করার বিচার চাইতে ভারতের সুপ্রীম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একটি মানবাধিকার সংগঠন ‘এ্যামনেস্টি ইন্ডিয়া’। যদিও বিএসএফের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। তারা শুধু মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে অমানবিকতার বিচার চাইবে।

‘এ্যামনেস্টি ইন্ডিয়া’ নামের ওই সংগঠনের সম্পাদক সুশান্ত সরকার বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ফেলানীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে নয়, বরং গুলি করে মেরে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখার মতো অমানবিকতার বিরুদ্ধে বিচার চাইতে সুপ্রিম কোর্টে যাবো আমরা। আগামী সপ্তাহে দিল্লি গিয়ে সুপ্রীম কোর্টে আপিল করা হবে।

সুশান্ত বলেন, ‘ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করা বাংলাদেশের কাছে যন্ত্রণাদায়ক। ভারতীয় সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী বিএসএফ ভারতীয় সংস্কৃতিকে আঘাত করেছে ফেলানীকে গুলি করে। গুলি করার পরে তাকে কাঁটাতারের বেড়া থেকে নামিয়ে চিকিৎসা করালে হয়ত বেঁচে যেত সে।’

তিনি বলেন, ‘ওই মানবিক কাজ কেন বিএসএফ করেনি তার বিচার চাওয়া হবে সুপ্রীম কোর্টে। ফেলানীকে হত্যার পর পাঁচ ঘণ্টা সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলে থাকার দৃশ্য সমগ্র বিশ্ববাসী দেখেছে। যা শুধু অমানবিক নয় আমাদের জন্য লজ্জার। ভারতীয় সংস্কৃতি এতটা অমানবিক নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএসএফের মত সুশৃঙ্খল বাহিনী এভাবে ভারতীয় সংস্কৃতিকে আঘাত করতে পারে না। এসব বিষয় নিয়ে ভারতের সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে একটি মানবিক আবেদন করা হবে।’

কাগজপত্র ছাড়া বিএসএফের বিরুদ্ধে অমানবিকতার অভিযোগ নিয়ে কিভাবে আপিল করবেন— এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুশান্ত বলেন, ‘অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে আমরা কোনো অভিযোগ করছি না। আমরা বিএসএফের বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থাশীল।’

এত দিন পর কেন বিএসএফের অমানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন— জবাবে তিনি বলেন, ‘ফেলানী হত্যার বিষয়টি অতিসম্প্রতি আমরা জেনেছি। আপিলের পাশাপাশি ভারতীয় আইনে তথ্য জানার যে অধিকার আছে তার ওপর ভিত্তি করে পুরো ঘটনা প্রকাশ্যে নিয়ে আসার দাবিও তোলা হবে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ফেলানী হত্যাকাণ্ড নিয়ে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপ-দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।’

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার ফুলবাড়ির অনন্তপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফের) গুলিতে প্রাণ হারান বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী খাতুন। ওই হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশে-বিদেশে এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।

২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট চাপের মুখে বিএসএফ নিজেদের উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার বিএসএফের বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার শুরু করে। কিন্তু ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বিএসএফের বিশেষ আদালত ফেলানী হত্যায় মূল অভিযুক্ত বিএসএফ জওয়ান অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেন।

এরপর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক যৌথ বৈঠকে ফের ফেলানী হত্যার পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন