মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ঘুষ দিয়েও কাজ না হওয়ায় চিঠি লিখে মুক্তিযোদ্ধা আয়ুব খান কেন আত্মহত্যা করেছেন তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পরিবার পক্ষ থেকে যে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে সেখানে কারো নাম না থাকলেও মৃত্যুর আগে তার লিখে যাওয়া চিরকুট ধরে এর তদন্ত চলছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ইউনিটের সাবেক কমান্ডর আয়ুব খান ওই চিরকুটে লিখেছেন- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিবের গলা ধাক্কার অপমান সইতে না পেরে তিনি বেছে নিয়েছেন আত্মহত্যার পথ।
মঙ্গলবার ৭ জুলাই সকালে তোপখানা রোডের পাশে একটি আবাসিক হোটেল থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মুক্তিযোদ্ধা আয়ুব খানকে। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি দেশের জন্য যোদ্ধা এই বীর সন্তানকে।
হোটেল রুম থেকে উদ্ধার করা কাগজপত্র ঘেঁটে এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আয়ুব খান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ইউনিটের সাবেক কমান্ডার। আত্মহত্যার আগে যে চিরকুট লিখেছেন- সেখানে তিনি উল্লেখ্য করেছেন অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের চট্টগ্রাম জেলা দক্ষিণ ইউনিট গঠন ও ঘোষণার জন্য। আর এজন্যই বেশ কিছুদিন ঘুরছিলেন মন্ত্রণালয়ে।
আয়ুব খানের মামাতো ভাই আমীর হোসেন বলেন, আয়ুব খান একটি চিরকুট লিখতে দেখেছিলাম। কিন্তু তাতে কি লিখেছিলেন, তা আমি আগে দেখিনি।
তবে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব এম এ হান্নান এর সব কিছুই অস্বীকার বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। এই আয়ুব খানকে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনি না। তাছাড়া আমার বাসায় আমি আর আমার স্ত্রী ছাড়া আর কেউ থাকে না। আর কেউ ইচ্ছে করলেই আমার বাসায় যেতে পারবে না।’
এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক জানান, আয়ুব খান চট্টগ্রাম দক্ষিণ আলাদা কাউন্সিল করতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি তা করতে না পারায় এ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
তবে এ ঘটানয় কারো নাম না থাকলেও তার লেখা চিরকুট ধরে তদন্ত চালানো হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে যাদেরকে দায়ী করা হয়েছে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


