লোকসভার বর্ষাকালীন অধিবেশন দশ দিন বাদেই শুরু হতে চলেছে। তার আগে অ-বিজেপি মনোভাবাপন্ন দলগুলিকে একজোট করতে ইফতারকে অস্ত্র করলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধী। আগামী সোমবার দশ জনপথে নিজের বাসভবনে ইফতারের দাওয়াতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকেও আমন্ত্রণ জানালেন সনিয়া। সূত্রের খবর, মমতা-সীতারাম দু’জনেই না এলেও, দু’দলই জানিয়েছে, দলের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন ওই অনুষ্ঠানে। রাজনৈতিক শিবিরের বিশ্লেষণ, সংসদের বাদল অধিবেশনে বিজেপি-কে বিচ্ছিন্ন করতেই ইফতারকে হাতিয়ার করে এই কৌশলী পদক্ষেপ করেছেন সনিয়া।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, মমতা-ইয়েচুরি ছাড়াও আমন্ত্রণ গিয়েছে লালুপ্রসাদ, মায়াবতী, মুলায়মের মতো বিজেপি বিরোধী নেতানেত্রীদের। সংসদে বিজেপি-কে যাতে একজোট হয়ে চেপে ধরা সম্ভব হয় তার জন্য ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা নিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে বিজেপি বিরোধী দলগুলির সঙ্গে। সুষমা-বসুন্ধরার দুর্নীতি ও ব্যপমের মতো কাণ্ডে ইতিমধ্যেই বিজেপি বেকায়দায়। বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের আক্রমণের আশঙ্কায় ভুগছে বিজেপি শিবির। কী ভাবে বিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরানো যায় সেই লক্ষ্যে কৌশল তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। গতকাল ব্যপম কাণ্ডের তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পরেই প্রতি আক্রমণে নামার সিদ্ধান্ত নেয় দল। কেন্দ্র তথা সরকার কী ভাবে অভিযোগ ওঠা মাত্রই যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে সেই প্রশ্নে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার কৌশল নিয়েছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব।
মুখে এই দাবি করলেও, সনিয়ার ইফতার রাজনীতির মাধ্যমে সব ক’টি বিরোধী দলকে এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা নিঃসন্দেহে বিজেপি-র রক্তচাপ বাড়াবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল শিবির। তবে বিজেপি-র কাছে আপাত স্বস্তির বিষয় হল, আমন্ত্রণ এলেও শেষ পর্যন্ত ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন না লালুপ্রসাদ-মুলায়ম বা মায়াবতীরা। যাবেন দলের প্রতিনিধিরা। একই ছবি তৃণমূল শিবিরেরও। আজ তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেছেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও আমন্ত্রণ এসেছে। কিন্তু দলীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি দলের কোনও নেতাকে ওই দাওয়াতে পাঠাবেন।’’ সিপিএম সূত্রেও জানা গিয়েছে, সীতারাম ইয়েচুরির পরিবর্তে যাবেন সাংসদ মহম্মদ সেলিম। তাঁকে আলাদা করে নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন সনিয়া।
সাম্প্রতিক সময়ে মমতার সঙ্গে বিজেপি-র সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক ভাল। সেই প্রেক্ষিতে সনিয়া গাঁধীর পক্ষ থেকে মমতাকে আমন্ত্রণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক শিবির। রাজ্য রাজনীতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও, কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সনিয়া গাঁধী তথা কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলায় বিশ্বাসী মমতা। ব্যক্তিগত ভাবে রাজীব গাঁধীর সঙ্গে ভাল সম্পর্ক থাকার সুবাদে বরাবরই সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে ভাল সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন মমতা। যদিও রাহুল গাঁধী রাজ্যস্তরে একলা চলার নীতি নিলেও, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মমতার সঙ্গে জোট বন্ধ করার রাস্তা করতে চাইছেন না সনিয়া। ইতিমধ্যেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করার পক্ষে সওয়াল করেছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গৌতম দেব।
নয়াদিল্লি প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


