কলকাতায় ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৪৩.৭ মিলিমিটার৷ যা ৮ বছরের রেকর্ড। বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ভারতের মধ্যে সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায়৷ ২২৮.১ মিলিমিটার৷ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিও ভেঙেছে রেকর্ড. রাতভর এই বৃষ্টিতে ভাসল কলকাতা ও শহরতলি৷ শুধু রাস্তায় নয়, পানি ঢুকল ঘরের ভেতরেও৷ রাস্তায় পানির তোড়ে ভেসে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর৷ পানি নামাতে তৎপর ছিল পৌরসভা৷ তা সত্ত্বেও অনেক জায়গায় পানি জমে রয়েছে৷ তবে এর মধ্যে আশার বাণী শুনিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর৷ নিম্নচাপ ছত্তিশগড়ে চলে যাওয়ায় শনিবার থেকে পশ্চিমবরেঙ্গর দক্ষিণে বৃষ্টি কমবে৷ তবে উত্তরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছেই৷
বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি বৃহস্পতিবার সকালে কিছুক্ষণের জন্য থামলেও ফের শুরু হয় কিছুক্ষণ পর থেকে৷ বৃহস্পতিবার রাতে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়৷ চলে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত৷ টানা প্রবল বৃষ্টিতে কলকাতা শহরের বিভিন্ন জায়গায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে৷ বৃষ্টিতে বহু জায়গাতেই গাছ, ল্যাম্পপোস্ট পড়ে গিয়ে ব্যাহত হয় মেট্রো রেল, যান চলাচল৷
পানি জমে গিয়ে শিয়ালদা দক্ষিণ শাখায় শুক্রবার ১০ জুলাই সকালে বেশ কিছুক্ষণের জন্য ট্রেন চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটে৷ নোয়াপাড়ায় লাইনে গাছ পড়ে যাওয়ায় কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো রেল চলাচল বন্ধ ছিল৷ টানা বৃষ্টিতে শহরের বহু জায়গাতেই পানি জমে যায়৷ পানি জমে মহাত্মা গান্ধী রোড, গিরিশ পার্ক, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, আমহার্স্ট স্ট্রিট, উল্টোডাঙা, চেতলা, বালিগঞ্জ, লেক গার্ডেন্স, সায়েন্স সিটি, এ জে সি বোস রোড, সেলিমপুর, মুকুন্দপুর, নয়াবাদ, বেহালা, হরিদেবপুর, ঠাকুরপুকুরের রঙ্গনাথপুর কলোনি, নিউ গড়িয়া, বিধাননগর, নবদিগন্ত-সহ আরও বেশ কিছু জায়গায়৷ পরে বহু জায়গায় পানি নেমে যায়৷ পানি জমে সেলিমপুর, নিউ গড়িয়া, লেক গার্ডেন্স, বেহালা, হরিদেবপুর-সহ বেশ কিছু জায়গাতে৷
টানা বৃষ্টিতে অনেকেই অফিস, স্কুলে যেতে পারেনি৷ বৃষ্টি থেমে যাওয়ার বেশ কয়েকঘণ্টা পরও ১০৯ নম্বর ওয়ার্ড জলমগ্ন ছিল৷ স্হানীয়দের অভিযোগ কাউন্সিলর, পুরসভাকে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি৷ লেক গার্ডেন্সেও বহু বাড়ি, আবাসন জলে থইথই৷ পানি জমে বড় রাস্তায়ও৷ সেখানে পানি শিশুরা কেউ সাঁতার কাটে, কেউ আবার বল নিয়ে খেলা করছিল৷ কলকাতা-সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বৃষ্টিতে পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি৷
পানি জমা প্রসঙ্গে শুক্রবার মেয়র শোভন চ্যাটার্জি বলেন, বেশি বৃষ্টি হলে পানি নামতে একটু সময় তো দিতেই হবে৷ তবে আগের তুলনায় এ বছর কম পানি জমেছে৷ দ্রুততার সঙ্গে পানি নামানো হয়েছে৷ সকাল থেকে কাউন্সিলররা নিজেদের ওয়ার্ডে দাঁড়িয়ে কাজ করেছেন৷ এম সি আই-দেরও যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে৷
মেয়র পারিষদ (নিকাশি) তারক সিং বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল- এই সময়ে কলকাতায় গড়ে ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে৷ প্রবল বৃষ্টিতে বৈষ্ণবঘাটা, বেহালা, টালিগঞ্জ, চেতলা, পাটুলি, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-সহ ৯৮, ১০২, ১০৩, ১০৪, ১০৯, ১১১, ১১২, ১১৩, ১১৪ ওয়ার্ডের বহু জায়গা জলমগ্ন হয়ে পড়ে৷ ২০০ জন ইঞ্জিনিয়ার শহরের পানি বের করতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে টানা কাজ করে চলেছেন৷ ৭৩টি পাম্পিং স্টেশন, ৩৬৬টি পাম্প, ৪৫০টি পোর্টেবল পাম্প চালিয়ে জমা পানি সরানো হয়৷
তারক সিং আরো বলেন, শহরের পানি মূলত বের হয় খাল, গঙ্গা দিয়ে৷ এদিন জোয়ার থাকায় পানি নামাতে সময় লেগেছে৷
নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


