গ্রিসের আর্থিক সংকটের ফলে বন্ধ রয়েছে ব্যাংকগুলো। অর্থনীতি দিনকে দিন আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় ব্যাংক না খোলা পর্যন্ত অর্থসংস্থান না হওয়ায় কাগজসংকটেও পড়েছে দেশটির সংবাদপত্র প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো। পাতার সংখ্যা কমিয়েছে বেশিরভাগ পত্রিকা; এই অবস্থা চলতে থাকলে প্রকাশনাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে গ্রিক সরকার বলেছে এই পরিস্থিতে প্রকাশনা স্থগিত হলেও পত্রিকার সরকারি সুযোগ-সুবিধার সমস্যা হবে না।
নতুন কাগজ কিনতে না পারার কারণে গ্রিসের সর্বাধিক বিক্রিত ও জনপ্রিয় পত্রিকা এম্প্রোজের মতো সব গ্রিক দৈনিকের প্রকাশনা প্রায় একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
গ্রিসের লেসভোস দ্বীপের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত সংবাদপত্র এম্প্রোজ এরই মধ্যে দৈনিকপ্রতি পৃষ্ঠার সংখ্যা ২০ থেকে ১৬-তে নামিয়ে এনেছে। আর দেশটিতে তরল অর্থের পরিমাণ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ায় পত্রিকাটি আর প্রকাশ করা সম্ভব নাও হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন এর প্রধান নির্বাহী ম্যানোলিস ম্যানোলাস।
রয়টার্সকে ফোনে ম্যানোলাস বলেন, ‘কাগজের সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় সংবাদপত্র নিয়েও সংকট অবশ্যম্ভাবী। আমাদের যিনি কাগজের সরবরাহকারী, তিনি আর কাগজ সরবরাহ করতে পারছেন না। ব্যাংক বন্ধ থাকায় লেনদেন সম্ভব হচ্ছে না বলে বিদেশী সরবরাহকারীদের তিনি টাকা দিতে পারছেন না এবং হাতে খুবই কম নগদ অর্থ থাকায় কাজ করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাংক বন্ধ। ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন ও লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় লাখো গ্রিক জনগণের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। জুন মাসের শেষদিনে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনে নতুন বিধান আরোপ করলে অর্থশূন্য হয়ে পড়ে দেশটির বড় বড় আমদানি-রফতানি প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে তখন থেকেই ব্যাংকগুলোর বাইরে এবং নগদ অর্থ উত্তোলনের যন্ত্রগুলোর সামনে অপেক্ষারত মানুষের দীর্ঘ সারি গ্রিসে এখন প্রতিদিনের নিয়মিত দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতির নতুন শিকার হল দেশটির সংবাদমাধ্যম। দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র তা নেয়া গত ১ জুলাই প্রকাশিত সংস্করণের সম্পাদকীয়তে লিখেছিল- ‘আপনার হাতে যে সংবাদপত্রটি এখন রয়েছে, এতে পৃষ্ঠার সংখ্যা আজ মাত্র ৩২টি। কারণ ছাপার কাগজের মজুদ আর মাত্র কয়েকদিন থাকবে এবং ব্যাংকিং অবকাশের কারণে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নতুন কাগজের সরবরাহ পাওয়া আর সম্ভব হবে না।’
লেসভোসের আরেকটি সংবাদপত্র- নিউজ অব লেসভোস নিজেদের কাগজের মজুদ নিয়ে শঙ্কিত কারণ খুব শিগগিরই তাদের মজুদকৃত কাগজও শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং নতুন করে পর্যাপ্ত পরিমাণ কাগজ হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, জানান প্রকাশক স্টেলিওস স্টাইকোস।
এছাড়া রাজধানীর বেসরকারি মালিকানাধীন, স্বল্পসংখ্যক প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোর প্রকাশনাও সংকুচিত হয়ে এসেছে বলে গ্রিস সরকারের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছে রয়টার্সকে। গ্রিসের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ওই সংবাদপত্রগুলোর বিক্রি নিয়মিত ছিল। এ ধরনের সংবাদপত্রগুলোর মূল আয় হতো সরকার অনুমোদিত শিথিলকৃত কর ও সরকারি বিজ্ঞাপন থেকে।
কাগজের অভাবের কারণে গ্রিক সরকার বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে গণমাধ্যম ব্যবসাকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, নগদ অর্থ লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করা পর্যন্ত সাময়িকভাবে যদি কিছু সংবাদপত্র প্রকাশ বন্ধও হয়ে যায়, তাহলেও তাদের ওপর থেকে সরকারি সুবিধাগুলো তুলে নেয়া হবে না।
গ্রিস সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক মহা-সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে বলেন, ‘দেশের সংবাদপত্রগুলোর কাগজ সবই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় এবং বিদেশী বিক্রেতাদের অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় কাগজের সরবরাহ সমস্যার বিষয়টি আমরা যে বুঝতে পারছি, সে বিষয়েই আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি।’
আমরা তাদের নিশ্চয়তা দিয়েছি যে, ২৮ জুন থেকে পরবর্তী ১৫ দিন ব্যাংক না খোলা পর্যন্ত পত্রিকা প্রকাশ বন্ধ থাকলেও কাগজগুলোর ওপর থেকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা উঠিয়ে নেয়া হবে না।
ইউরোপ ব্যুরো, প্যারিস
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


