বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

উত্তেজিত জনতার তাড়া খেয়ে পালালেন সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী

1436676290উত্তেজিত জনতার আক্রমণের হাত থেকে কোনও মতে পালিয়ে প্রাণে বাঁচলেন সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ভুসিচ৷ শনিবার বসনিয়ার সেব্রেনিকা শহরে ঘটনাটি ঘটে৷

১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে বর্বর সার্ব বাহিনীর হাতে প্রাণ হারান প্রায় ৮ হাজার মুসলিম পুরুষ ও নাবালক৷ এদিন সেব্রেনিকা গণহত্যার ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী৷ সেখানেই বসনিয়াবাসীদের ক্রোধের মুখে পড়েন তিনি৷ স্মৃতিসৌধে ফুল রাখার পরই ক্ষুব্ধ জনতা তাঁর দিকে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে৷ ভুসিচের দেহরক্ষীরা তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে আড়াল করে ফেলেন৷ কোনও ক্রমে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে৷

Bosnia-655x360বলকান যুদ্ধের সময় সার্বরা সেব্রেনিকা শহরটি দখল করে নেয়। জাতিসঙ্ঘের ৮১৯ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী সেব্রেনিকা শহরটি নিরাপদ অঞ্চল বলে ঘোষণা করা হয়েছিল৷ কিন্তু সার্বরা জাতিসঙ্ঘের ডাচ শান্তিরক্ষীদের কোনও বাধা ছাড়াই শহরটি দখল করে সেখানকার হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে৷ধর্ষণ করা হয় কয়েক হাজার মেয়েকে৷নিহতের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়ে যায়৷

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর এটাই ইউরোপে সংঘটিত সবচেয়ে বড় গণহত্যার ঘটনা৷ সার্ব বাহিনীর গণহত্যার শিকার মুসলমানদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এদিন সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি মেনে নিতে পারেনি বসনিয়ার জনগণ৷

সেব্রেনিকা গণহত্যার ২০তম বার্ষিকীতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও আরো অনেকের সঙ্গে আমন্ত্রিত ছিলেন ভুসিচ। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পরপরই জনতা ভুসিচকে লক্ষ্য করে ঢিল ও বোতল ছুঁড়তে থাকে। ঢিলের আঘাতে তার চশমাও ভেঙে যায়। এ সময় দ্রুত দেহরক্ষীরা ভুসিচকে ঘিরে ধরে জনতার ভিড় ঠেলেই সেখান থেকে বের করে নিয়ে যায়। হামলার সময় অনেককেই ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিতে শোনা যায়।

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন