উত্তেজিত জনতার আক্রমণের হাত থেকে কোনও মতে পালিয়ে প্রাণে বাঁচলেন সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ভুসিচ৷ শনিবার বসনিয়ার সেব্রেনিকা শহরে ঘটনাটি ঘটে৷
১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে বর্বর সার্ব বাহিনীর হাতে প্রাণ হারান প্রায় ৮ হাজার মুসলিম পুরুষ ও নাবালক৷ এদিন সেব্রেনিকা গণহত্যার ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী৷ সেখানেই বসনিয়াবাসীদের ক্রোধের মুখে পড়েন তিনি৷ স্মৃতিসৌধে ফুল রাখার পরই ক্ষুব্ধ জনতা তাঁর দিকে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে৷ ভুসিচের দেহরক্ষীরা তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে আড়াল করে ফেলেন৷ কোনও ক্রমে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে৷
বলকান যুদ্ধের সময় সার্বরা সেব্রেনিকা শহরটি দখল করে নেয়। জাতিসঙ্ঘের ৮১৯ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী সেব্রেনিকা শহরটি নিরাপদ অঞ্চল বলে ঘোষণা করা হয়েছিল৷ কিন্তু সার্বরা জাতিসঙ্ঘের ডাচ শান্তিরক্ষীদের কোনও বাধা ছাড়াই শহরটি দখল করে সেখানকার হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে৷ধর্ষণ করা হয় কয়েক হাজার মেয়েকে৷নিহতের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়ে যায়৷
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর এটাই ইউরোপে সংঘটিত সবচেয়ে বড় গণহত্যার ঘটনা৷ সার্ব বাহিনীর গণহত্যার শিকার মুসলমানদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এদিন সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি মেনে নিতে পারেনি বসনিয়ার জনগণ৷
সেব্রেনিকা গণহত্যার ২০তম বার্ষিকীতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও আরো অনেকের সঙ্গে আমন্ত্রিত ছিলেন ভুসিচ। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পরপরই জনতা ভুসিচকে লক্ষ্য করে ঢিল ও বোতল ছুঁড়তে থাকে। ঢিলের আঘাতে তার চশমাও ভেঙে যায়। এ সময় দ্রুত দেহরক্ষীরা ভুসিচকে ঘিরে ধরে জনতার ভিড় ঠেলেই সেখান থেকে বের করে নিয়ে যায়। হামলার সময় অনেককেই ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিতে শোনা যায়।
ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


