বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার: ঈদের সবকিছু পাবেন যেখানে

CTG-Riazuddinশত বছরের পুরনো চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারে। সারা বছরই এ বাজারে ভিড় লেগে থাকে। রমজানে ভিড় আরো বাড়ে। এবার রোজার শুরু থেকে জমজমাট চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাজারটি।কাপড়, থ্রিপিস, বেনারসি, কাতান, লেহেঙ্গা, বৈচিত্র্যে ভরপুর গহনা, ছেলেদের পোশাক। ক্রোকারিজ থেকে ইলেকট্রনিক। দেশী-বিদেশী সব পণ্যের সম্ভার।

ব্যবসায়ীরা জানান, ১৯০৩ সালের দিকে গোড়াপত্তন হয় রিয়াজউদ্দিন বাজারের। একতলা বিশিষ্ট কয়েকটি দোকান মিলে এ বাজার গড়ে উঠলেও এখন মার্কেটের সংখ্যা প্রায় আড়াইশ। পুরনো ধাঁচ ভেঙে গড়ে উঠছে আধুনিক সুবিধাসংবলিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বহুতল ভবন। ছোট-বড় মিলে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি দোকান রয়েছে এ বাজারে।

স্টেশন রোড থেকে শুরু করে আমতলা, জুবিলী রোড, এনায়েত বাজারের বিশাল এলাকা নিয়ে রিয়াজউদ্দিন বাজার। ১০টি প্রবেশমুখে প্রতিদিন লাখো মানুষ এখানে কেনাকাটা করতে আসে। ক্রেতাদের সুবিধার্থে বাজারের ভেতরে করা হয়েছে প্রশস্ত রাস্তা। এ বাজারের অধীনে আরো রয়েছে প্রায় ২০টি মার্কেট। বাজারের উত্তর দিকে এনায়েত বাজার, দক্ষিণে রেলস্টেশন রোড, পূর্বে জুবিলী রোড, পশ্চিমে বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড— এ বিশাল এলাকা নিয়েই বাজারের অবস্থান।

কম ও বেশি দামের সব পণ্য সহজেই এখানে পাওয়া যায় উল্লেখ করে বহদ্দার এলাকার বাসিন্দা নুসরাত জাহান বলেন, ‘চট্টগ্রামে রিয়াজউদ্দিন বাজারই একমাত্র বাজার, যেখানে সব ধরনের পণ্য, কাপড়, প্রসাধনী, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পাওয়া যায়। অন্য যেকোনো বাজারের চেয়ে এখানে পণ্যের গুণগত মান অনেক ভালো এবং দামেও সাশ্রয়ী।’

ধনী-গরিব সর্বস্তরের মানুষের মার্কেট হিসেবে খ্যাত রিয়াজউদ্দিন বাজারের প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো জামদানি, তাঁতের শাড়ি, ঢাকাইয়া জামদানি, ভারতীয় সিল্ক ও জর্জেট শাড়িসহ আকর্ষণীয় সব কালেকশনের পসরা সাজিয়েছে পোশাক বিক্রেতারা।

শাড়ির জগতে কাদেরীয়া বেনারসি ভাণ্ডারের সুনাম সারা রিয়াজউদ্দিন বাজারে। দোকানের মুহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, এবারের ঈদে দোপিয়ান কাতান, পিওর জর্জেট ও জামদানি কাতানের চাহিদা অনেক বেশি। দোপিয়ান ৩ থেকে ১২ হাজার টাকা, পিওর জর্জেট ৩ থেকে ৭ হাজার, ঢাকাইয়া জামদানি ৩ থেকে ৬ হাজার, জামদানি কাতান ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার এবং কুচি কাতান ২ থেকে ৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া লেহেঙ্গার বর্ণিল সমাহার রয়েছে এখানে।

রিয়াজউদ্দিন বাজারেই রয়েছে নামি ব্র্যান্ড সেলিম পাঞ্জাবি। ঈদ সংগ্রহ নিয়ে ম্যানেজার নূর মোহাম্মদ বলেন, এবার জেলফিন, বোয়ালাম ও খোশাল নামের পাঞ্জাবি বেশ সাড়া ফেলেছে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াকুব বলেন, বাজারের চার পাশের অবৈধ হকারদের কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাজারের সুনাম রক্ষার্থে হকার্স উচ্ছেদে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান তিনি।

ক্রেতারা যাতে সুন্দর-স্বাচ্ছন্দ্যভাবে কেনাকাটা করতে পারেন, সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান রিয়াজউদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম ট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় সাদা ও পোশাকধারী পুলিশের সার্বক্ষণিক টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর বৃষ্টিতেও যাতে ক্রেতাদের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সেজন্য বাজার এলাকা ত্রিপল দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন