বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

চাঁদাবাজির দায়ে ৬ পুলিশ প্রত্যাহার

Police_Bdরাজধানীসহ দেশজুড়ে শুরু হওয়া ভয়াবহ চাঁদাবাজিতে পিছিয়ে নেই পুলিশও। গত দুই দিনে রাজধানী ও খাগড়াছড়িতে অন্তত ৬ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে পাওয়া গেছে। তাদের এরইমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া অসদাচরণের জন্য গাইবান্ধা থানার ওসিসহ ৮ পুলিশকে বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মাহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ডিএমপি সদরদপ্তরে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ করেছেন, যার ভিত্তিতে তাদের ক্লোজ করা হয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন- মিরপুর শাহআলী থানার এসআই আবদুল বাতেন ও এএসআই ইমরুল হোসেন। ডিএমপির সংশ্লিষ্ট জোনের উপ-কমিশনার কাইয়ুমুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রশাসনিক কারণে এ দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ফলে এ নিয়ে কিছু বলার সুযোগ নেই।”

এদিকে একই অভিযোগে শনিবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ডিবি পুলিশের হাতে আটক হন কাফরুল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি অবণী শংকর দাবি করেন, হাতেনাতে চাঁদাবাজীর সময় রফিকুলকে আটক করে ডিবি। বর্তমানে তিনি ডিবি কার্যালয়েই আছেন। পরে যাত্রাবাড়ী থানায় কথা বলে জানা যায়, রোববার সকালে থানায় ডিসি অফিস থেকে কাগজ গিয়েছে, যেখানে লেখা রয়েছে, ‘রফিকুল ইসলামকে ডিসি অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।’

পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ শুধু রাজধানীতেই নয়, রয়েছে পাহাড়েও। খাগড়াছড়িতে এক পরিবারের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগে এসবি ও ডিবি পুলিশের তিন কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মজিদ আলী জানান, শনিবার রাতে তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর রাতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলেন- পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কনস্টেবল ফিরোজ ও মনিরুজ্জামান এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কনস্টেবল হাফিজ।

জেলা শহরের গঞ্জপাড়া এলাকায় কেসিং মারমা ও তার স্ত্রী মাপরু মারমার (২৬) কাছ থেকে ওই তিন কনস্টেবল ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন বলে প্রমাণ পাওয়ার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানান।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মোহাম্মাদ মজিদ আলী বলেন, “ওই তিন পুলিশ সদস্য গত ৮ জুলাই রাতে কেসিং মারমার বাসায় গিয়ে তাকে হাতকড়া পড়ায়। এরপর তার স্ত্রীকে তারা বলে, ৫০ হাজার টাকা না দিলে মাদক বিক্রির অভিযোগে তার স্বামীকে থানায় নেওয়া হবে। ওই দম্পতি তিন পুলিশকে ২০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন।”

এছাড়া সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার কার্যালয়ে গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কর্মচারীকে মারপিট ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে রোববার দুই কর্মকর্তাসহ অপর ৮ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম তাসনিকুল হক।

পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগের প্রসঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) এ কে এম শহীদুল হক বলেন, “পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ নতুন কিছু নয়, এটা ‘সনাতন’ অভিযোগ। অতীতেও পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ছিলো, এখনও আছে। তাই যে সব অভিযোগ শোনাযাচ্ছে সেগুলো তদন্তে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছুই বলা সম্ভব না।”

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন