নিজেদের মাঠে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এসে বাংলাদেশের বোলাররা জ্বলে ওঠে। টাইগারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৬২ রানে অলআউট করে দিয়েছে বাংলাদেশ। ওভার বাকি ছিল চার ওভার। জয়ের জন্য টাইগারদের দরকার ৫০ ওভারে ১৬৩ রান।
স্পিনের চেয়ে এদিন পেস অ্যাটাকেই বেশ সফলতা পায় বাংলাদেশ। তরুণ মুস্তাফিজের সঙ্গে অভিজ্ঞ রুবেল হোসেন তছনছ করে দেন প্রোটিয়াদের ব্যাটিং দেয়াল। তবে অফ ব্রেক বলে নাসিরও কম যাননি। সঙ্গে ছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি ও রিয়াদের কৌশলী বোলিং। সব মিলিয়ে টস জিতে প্রোটিয়া অধিনায়ক হাশিম আমলার আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্তটা সফল হতে দেয়নি বাংলাদেশের বোলাররা।
ইনিংসের শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার কুইন্টন ডি কককে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। পঞ্চম ভারের প্রথম বলেই শট লেন্থের ডেলিভারি দেন মুস্তাফিজ। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে পুশ করতে গিয়ে সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ দেন কুইন্টন ডি কক। ১৬ রানেই পতন ঘটে প্রোটিয়াদের প্রথম উইকেটের। ৯ বলে ডি কক ফিরে যান ২ রান করে।
ফ্যাফ ডু প্লেসিসকে নিয়ে হাশিম আমলা ভালোই মোকাবিলা করে যাচ্ছিল বাংলাদেশের তিন পেসার মাশরাফি, মুস্তাফিজ এবং রুবেল হোসেনকে। মাঝে মাশরাফি বোলিং আক্রমণে নিয়ে আসেন স্পিনার। সাকিব আল হাসানকে দিয়ে বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য আনলেও ১১তম ওভারেই আনা হয় রুবেলকে। এই ওভারে তার কাছ থেকে ৪ রান নেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা।
১৩তম ওভারে আবারও আসেন রুবেল হোসেন। প্রথম বলেই দুর্দান্ত ডেলিভারি। ফুল লেন্থের বলটিতে যেন হাশিম আমলার মত ব্যাটসম্যান গতির কাছেই শুধু হার মানলেন। রুবেলের বলটি বুঝতেই পারলেন না। আমলার অফ স্ট্যাম্প হাওয়া ভাসিয়ে দিলেন তিনি। বার কয়েক উল্টে অনেক দূরে গিয়ে পড়লো স্ট্যাম্প। ৪৫ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন। ৩৭ বলে ২২ রান করে ফেরেন হাশিম আমলা।
অধিনায়ক আউট হয়ে যাওয়ার পর ডু প্লেসিস আর রিলে রুশে মিলে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার কাজ শুরু করেন। ১৪ রানের জুটি গড়েন তারা দু’জন। তবে বেশিক্ষণ থাকতে পারলেন না। ১৯তম ওভারে নাসিরকে আক্রমণে নিয়ে আসেন মাশরাফি। প্রথম বলেই রুশোর স্ট্যাম্প উড়িয়ে দেন নাসির। তার স্ট্রেইট বলটিকে সহজ ভেবে কভার ড্রাইভ করতে যান রুশো। কিন্তু ব্যাটেই লাগাতে পারলেন না। হয়ে যান বোল্ড। ৫৯ রানে পড়ে প্রোটিয়াদের তৃতীয় উইকেট।
ডেভিড মিলারের নামই হয়ে গেছে ‘কিলার’ মিলার। ভয়ঙ্কর ব্যাটিং করেন থাকেন তিনি। কিন্তু ডু প্লেসিসের সাথে কাঙ্খিত জুটিটা তিনিও গড়তে পারলেন না। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে আক্রমণে এনে তার উইকেটও তুলে নেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ২৪তম ওভারের তৃতীয় বলে মাহমুদুল্লাহর স্পিন বুঝতে না পেরে ক্যাচ দেন শর্ট মিডউইকেটে। সেখানে দাঁড়ানো মাশরাফির জন্য ক্যাচটি লুফে নেওয়া কঠিন কিছু ছিল না। ৭৪ রানে পড়ে প্রোটিয়াদের ৪র্থ উইকেট।
ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নামা ডু প্লেসিস ছিলেন বাংলাদেশের বোলারদের জন্য সবচেয়ে বড় মাথা ব্যথার কারণ। বাংলাদেশ সফরে প্রোটিয়াদের এই টপ অর্ডার দারুণ ফর্মে। তাকে ফেরাতে না পারলে যে রানের চাকা থামানো কষ্টকর হয়ে পড়বে! অবশেষে স্পিনের কাছে হার মানলেন ভয়ঙ্কর প্লেসিসও। স্পিনার নাসির হোসেন।
ডিপ মিডউইকেটে নাসিরকে তুলে মারতে চেয়েছিলেন প্লেসিস। কিন্তু সৌম্য সরকার ছিলেন সেখানে। সহজেই তালুবন্দী করে নেন তিনি প্লেসিসের ক্যাচ। ৬৪ বলে ৪১ রান করে আউট হন প্লেসিস। দলীয় রান তখন ৯৩। অর্থাৎ ৯৩ রানে ঘটল পঞ্চম উইকেটের পতন।
রিভিউ নিয়ে একবার বেঁচে গেলেন ফারহান বেহার্ডিয়েন। নাসিরের বলে এলবিডব্লিউ হয়েছিলেন বেহার্ডিয়েন। আম্পায়ার আউটও দেন। কিন্তু রিভিউতে দেখা গেল তিনি আউট নন। এ যাত্রায় বেহার্ডিয়েন বেঁচেছেন। কিন্তু পরের যাত্রায় তো আর মুস্তাফিজের হাত থেকে বাঁচার উপায় নেই। সুতরাং, উইকেট বিলিয়ে দিতে বাধ্য হলেন ডুমিনি। ২১ বলে ১৩ রান করে ফেরেন প্রোটিয়াদের এই ব্যাটসম্যান। ১০০ রানের মাথায় পতন ঘটলো ৬ষ্ঠ উইকেটের।
এরপর আবারো রুবেলের আঘাত। এলবিডব্লিউর শিকার বানান মরিসকে। সাজঘরে ফেরার আগে মরিস ১৩ বলে ১২ রান করে যান। অষ্টম উইকেট জুটিতে রাবাদা ও বেহার্ডিয়েন উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তা বেশীক্ষণ সফল হয়নি মুস্তাফিজের কল্যানে। সরাসরি বোল্ড করেন দেন প্রথম ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট নেয়া প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদাকে। আউট হওয়ার আগে রাবাদা করে যান ২৫ বলে ১০ রান।
শেষ পর্যন্ত ৪৬ ওভারে ১৬২ রানে অল আউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। অ্যাবোট ৫ রান করে নাসিরের শিকার। আর ৩৬ রান করে ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠা বেহার্ডিয়েন বিদায় নেন মাশরাফির বলে।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান ও নাসির হোসেন। রুবেল দুটি, মাশরাফি ও রিয়াদ একটি করে উইকেট লাভ করেন। উইকেট পাননি তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন তিনি। ১০ ওভারে রান দিয়েছেন ৩০।
ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


