ফোন করে অথবা এসএমএস পাঠিয়ে প্রতারকচক্রের এই ফাঁদে পা দিয়ে অর্থ খোয়াচ্ছেন অনেকেই। পুলিশ বলছে, রাস্তার পাশে এক সময় যারা ওষুধের ক্যানভাস করে বেড়াতেন তারাই এখন এরকম প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েছে। অর্থ আদান-প্রদানের সহজ্যলভ্যতার সুযোগে ফোনে প্রতারণার অভিযোগ আগের চেয়েও বেশি পাচ্ছে পুলিশ। ধর্মের কথা বলে কথিত এই পীরদেরও গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে বলে জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মুখপাত্র ও যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
পীর ও মাজারের নামে প্রতারণার অনেক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এরকমই একটি ঘটনার কথা জানা গেল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইস্রাফিলের কাছ থেকে। তিনি জানান, গত ২০ জুন মাঝ রাতে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে অপর প্রান্ত থেকে নিজেকে পীর দাবি করে একজন তাকে নিয়মিত নামাজ পড়তে বলেন। পাশাপাশি মিথ্যা ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, ওই পীর দাবি করেন, এই নির্দেশ পূরণ করতে পারলে সোয়া কেজি সোনা উপহার দেবেন তিনি। তবে সোনা বিক্রির টাকা দিয়ে বাবার নামে একটি মসজিদ ও মায়ের নামে একটি এতিমখানা খুলতে বলেন ওই কথিত পীর।
অবশ্য এ জন্য সিলেটের একটি মাজারে কোরআন শরীফ ও জায়নামাজ দান করতে বলা হয় ইস্রাফিলকে। নিজে যেতে না পারলে বিকাশের মাধ্যমে তাকে টাকা পাঠানোর কথাও বলা হয়।
মানিকগঞ্জের ঘিওর কলেজের শিক্ষক সেলিনা আক্তারের কাছেও কয়েক মাস আগে একটি নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, তার মোবাইলে ভুলে কিছু টাকা চলে গিয়েছে।
সেটি খুব দ্রুত ফ্লেক্সিলোডের মাধ্যমে ফেরত চাওয়া হলে সেলিনা নিজের মোবাইলের ব্যালেন্স না দেখেই সেই টাকা ফেরত দিয়ে দেন। এরপর দেখেন তার মোবাইল নম্বরে বাড়তি কোনো টাকা আসেনি বরং তার টাকা খোয়া গেছে।
শুধু এরকম ঘটনা নয়, সাম্প্রতিক সময়ে নানা পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পেয়েছে পুলিশ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হোসেনকে (ছদ্মনাম) ভিন্নরকম ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। একটি পরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, আপনি গ্রামীণফোনের স্টার গ্রাহক। আপনার মতো গ্রাহকদের মধ্যে ১০ জনকে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। আপনি যত দ্রুত সম্ভব টাকাগুলো নিয়ে যান।
পরবর্তীতে ওই নম্বরে ফোন করলে তার কাছে ভ্যাট এবং কনভেন্স ফি বাবদ ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে জানান তিনি।
এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ প্রতিনিয়ত আসছে পুলিশের কাছে। এসব বিবেচনায় মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোকে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেছে পুলিশ বাহিনী।
গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, বিভিন্ন মোবাইল ফোন কোম্পানির সিম থেকে সাম্প্রতিক সময়ে লোভনীয় এসএমএস ও বিভিন্ন ধরনের পুরস্কারের কথা বলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর সচেতনামূলক এসএমএস দিয়ে মোবাইল গ্রাহকদের সচেতন করতে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মনিরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দারা অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে এক সময় রাস্তার পাশে যারা ওষুধ ও রকমারি পণ্য বিক্রির জন্য ক্যানভাস করতো, তারাই নতুনভাবে মোবাইল গ্রাহকদের ফোন দিয়ে প্রতারণা করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছেন। কারণ তারা খুব সুন্দর করে কথা বলতে পারেন।
সাম্প্রতিক সময়ে গোয়েন্দা পুলিশ এরকম বেশ কিছু অভিযোগ পেয়ে প্রতারকদের ধরতে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মনিরুল জানান, কিছু প্রতারক বিভিন্ন মাজারে বিনা খরচে থাকা ও খাওয়ার সুযোগ থাকায় সেই মাজারে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন লোকের ফোন ব্যবহার করে প্রতারণা করে থাকে।
সূত্র: বিডিনিউজ


