চটকদার রসিক বক্তা, অমৃতসর লোকসভা কেন্দ্রের তিনবারের সাংসদ, ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার নবজ্যোৎ সিং সিধু আবার ফিরছেন সক্রিয় রাজনীতিতে৷ ধীরে ধীরে প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে সরে এসেছিলেন৷ গত বছর লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকাতেও তাঁকে রাখেনি বি জে পি নেতৃত্ব৷ নানা কারণে ২০১৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে সিধুকে সামনে নিয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বি জে পি নেতৃত্ব৷ বি জে পি-তে শিখ নেতা সিধু হিন্দু ধর্মের আচার-বিচারও পালন করেন৷
বিজেপি সূত্রর খবর, পাঞ্জাবের গ্রামীণ ভোটারদের সিধুর জনপ্রিয়তা বুঝেই তাঁকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত মোটামুটিভাবে স্হির৷ গ্রামে গ্রামে ঘুরবেন সিধু৷ ৬ মাস ধরে তিনি বি জে পি-র প্রচার চালাবেন পাঞ্জাবের গ্রামে গ্রামে৷ কবে থেকে?– সেটা আনুষ্ঠানিক খুব একটা ঘোষণা করে নয়৷ নির্দিষ্ট কর্মসূচি বা ঘোষিত সফরসূচিতে নয়৷ এমনি এমনি– খোলামেলাভাব৷ যেমন ইচ্ছে, তেমন যাবেন পাঞ্জাবের গাঁ গাঁয়ে৷ এখন সঙঘকর্মীরা পাঞ্জাবে গাঁয়েগঞ্জে সিধুর জনপ্রিয়তার জরিপে নেমেছেন৷ তাঁরা বি জে পি হাইকমান্ডকে রিপোর্ট দেবেন৷ তার পরই সিধু নামবেন৷
গ্রামে গঞ্জে নবজ্যোৎ সিং সিধুর ওই ৬ মাসের সফর যদি সফল বলে মনে হয় বি জে পি নেতৃত্বের, তখন পাঞ্জাব বিধানসভার ২০১৭ সালের নির্বাচনে দলের প্রচারে নেতৃত্ব দেওয়ার ভার দেওয়া হবে ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা প্রাক্তন সাংসদ নবজ্যোৎ সিং সিধুকে৷ বি জে পি নেতৃত্ব মাথায় রেখেছে, হরিয়ানা, জম্মু-কাশ্মীর নির্বাচনে ভোট প্রচারে সিধু ছিলেন তারকা বক্তা৷
অমৃতসরে সিধুর নতুন গড়া বাড়ির লনে গত বছর শিবমূর্তি স্হাপন করেছেন সিধু৷ পাঞ্জাবে হিন্দুদের ভেতরও সিধুর জনপ্রিয়তা রয়েছে৷ বি জে পি নেতৃত্ব ভেবে রেখেছে যদি সিধুর ৬ মাসের পাঞ্জাব সফরের সাফল্য হাইকমান্ডের প্রত্যাশামতো হয় এবং পাঞ্জাবের বি জে পি প্রদেশ নেতারাও আশাবাদী হয়ে ওঠেন, তা হলে ২০১৭-র বিধানসভা নির্বাচনে পাঞ্জাবে বি জে পি একাই লড়বে৷ পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে একা লড়ার এই ভাবনা স্বয়ং বি জে পি সভাপতি অমিত শাহ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাদের৷ তাঁরা অপেক্ষা করছেন অনুকূল পরিস্হিতির৷ অকালি দলের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, নেতা এই মুহূর্তে পাঞ্জাবে জোট সঙ্গী বি জে পি সম্পর্কে অস্বস্তি প্রকাশ করতে শুরু করেছেন৷ তা সত্ত্বেও চণ্ডীগড়ে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে অকালি মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদল এই সেদিন বলেছেন, বি জে পি-শিরোমণি অকালি দলের জোট আগে যেমন শক্তপোক্ত ছিল এখনও সেরকম আঁটোসাঁটো৷
কয়েকজন বি জে পি নেতা, মন্ত্রী প্রকাশ্যে অকালি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী বাদল বলেছেন জোট বা সরকারে কোনও মতভেদ নেই৷ বাদল এ-সব কথা বললেও তাঁর সরকারের দুই বি জে পি মন্ত্রী মদন মোহন মিত্তাল (শ্রমমন্ত্রী), অনিল যোশি (স্হানীয় সরকার) গত সপ্তাহে প্রকাশ্যেই দুষেছেন অকালি নেতৃত্বকে৷ এ-সব গোলযোগের দিকে নজর রেখে চলেছেন বি জে পি নেতৃত্ব৷ অকালি-বি জে পি জোট তিন দশকের৷ ২০০৭-এ প্রথম ক্ষমতায় এসেছিল এই জোট৷ এর পর ২০১২-তে৷
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


