বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ইফতার রাজনীতিতে সফল হলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া

ডিম্পল বরা, নয়াদিল্লি॥
কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী চেয়েছিলেন ইফতার পার্টি থেকে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে বিরোধী ঐক্যের একটি বার্তা দিতে, তাতে তিনি অনেকটাই সফল হলেন। তবে, সমাজবাদী পার্টির মুলায়ম সিং যাদব বা তাঁর দলের কোনও প্রতিনিধি যাননি৷‌ সি পি এমের পক্ষেও কেউ ছিলেন না৷‌ যদিও সীতারাম ইয়েচুরিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল৷‌ কিন্তু মোটের ওপর সোনিয়া সফল৷‌

সোমবার ১৩ জুলাই আয়োজিত এই ইফতার পার্টতে দরজায় দাঁড়িয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী৷‌

অভ্যাগত নেতাদের মধ্যে ছিলেন জে ডি (ইউ)-এর পক্ষ থেকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, শরদ যাদব, তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন, আর জে ডি-র জয়প্রকাশ যাদব, প্রেমচন্দ্র গুপ্তা, বি এস পি-র সতীশচন্দ্র মিশ্র, ডি এম কে-র কানিমোঝি, ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লাহ, এন সি পি-র শারদ পাওয়ার এবং তেলেঙ্গানার টি আর এস নেতা হনুমন্ত রাও৷‌

এছাড়াও পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল বাসিত৷‌ পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় ইফতারে যোগ দিতে পারেননি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, সি পি এমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এবং আর জে ডি নেতা লালুপ্রসাদ যাদব৷‌

মমতা ব্যানার্জির প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন৷‌ সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সব বিরোধী দলকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে সোনিয়ার ইফতারকে৷‌ আর তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছে বি জে পি৷‌ বিতর্কিত জমি অধিগ্রহণ বিলের তীব্র বিরোধিতা, ললিত মোদি-কাণ্ডে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও রাজস্হানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের অপসারণের দাবি এবং ব্যাপম-কাণ্ডে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের পদত্যাগের দাবিতে সরব হবেন বিরোধীরা৷‌ এর সঙ্গে আছে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ও মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী পঙ্কজা মুন্ডের পদত্যাগের দাবি৷‌ এছাড়াও আরও বেশ কিছু ইস্যুতে সরকার পক্ষকে কোণঠাসা করতে চাইছে কংগ্রেস৷‌

দলনেত্রী এদিন মোদি সরকারকে জোটবদ্ধ বিরোধী আক্রমণের বার্তাটি দিতে পেরেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে৷‌ যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বি জে পি নেতা মুখতার আব্বাস নাকভি বলেছেন, সবটাই সোনিয়া গান্ধীর ‘ফটো সেশন’৷‌

সংসদে যখন বিল পেশ করা হয় তখন সেটা কোনও দলের হয় না৷‌ সরকার দেশের স্বার্থে সংসদে বিল আনবে৷‌ সেগুলি পাস করাতেও সব রকম চেষ্টা করবে সরকার৷‌ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যা-ই বলুন, সোনিয়া গান্ধীর ইফতারে কোন নেতা এলেন, কে এলেন না, সেটা দেখে নিজেদের কৌশল ঠিক করছে এন ডি এ সরকার৷‌

বর্ষা অধিবেশন শুরু হচ্ছে ২১ জুলাই৷‌ সোনিয়া গান্ধীর ইফতার নৈশভোজের মাধ্যমে সমমনস্ক রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে কাছে আনলেন বলেই মনে করা হছে৷‌

এদিকে পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক ও তার পরবর্তী পরিস্হিতি আরেক রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠছে৷‌ বিদেশনীতিতে মোদিকে বাহবা পাওয়ার সুযোগ খুব একটা দিচ্ছে না পাকিস্তান৷‌ মুম্বই সন্ত্রাসের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের মনোভাব যে কিছুই বদলায়নি, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সরতাজ আজিজ৷‌ তাঁর বক্তব্য, আরও সাবুদ পেশ করতে হবে দিল্লিকে৷‌ মোদি-শরিফ বৈঠকে তবে কীসের বোঝাপড়াটা হল? কংগ্রেস মুখর৷‌

পাক হাইকমিশন এর মধ্যে তাদের ইদ-মিলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের৷‌ নতুন কিছু ঘটনা নয়৷‌ তবু এই নিয়েও কথা উঠছে৷‌ সো

নিয়ার ইফতার পার্টিতে এক ফাঁকে সংবাদ সংস্হার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেন, দু’দেশ নিজেদের মধ্যে কথা বলছে, সেটা ভাল কথা৷‌ তবে পাকিস্তান যেন সত্যিকারের কাজটা করে৷‌ হুরিয়ত নেতাদের সম্পর্কে পাকিস্তান কী দৃষ্টিভঙ্গি নেয়, সেটাও দেখার৷‌

নয়াদিল্লি প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন