বাংলাদেশের অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ছয়মাসের বেশি সময় কারারুদ্ধ থাকার পর তার মুক্তি হলো। স্ত্রী রাহাত আরা বেগম ও বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার ১৪ জুলাই সন্ধ্যার পর ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। শিগগিরই চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে যাবেন। সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে তিনি যেন আবার দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন সে জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন।
হুইল চেয়ারে বসে মুক্তি পাওয়া ফখরুল সাংবাদিকদের, ‘আমি খুব অসুস্থ, হার্টে ব্লকসহ শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা আছে। ছয় মাসে আমার ১২ কেজি ওজন কমেছে। মুক্তি পাওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আগে আমেরিকা ও সিঙ্গাপুরে ডাক্তার দেখাতাম। এখনো সেখানেই যাব। আমার স্ত্রী যোগাযোগ সে দেশের ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।’
প্রিজন সেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা ফাতেমা আমিনকে দেখতে যান মির্জা ফখরুল।
চলতি বছরের শুরুতে ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার ঘটনা ঘটে। জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে ৬ জানুয়ারি মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে নাশকতার অভিযোগে পল্টন ও মতিঝিল থানার সাতটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে পল্টন থানার মামলা ছয়টি ও মতিঝিল থানার একটি। সবগুলোতে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।
এর মধ্যে পল্টন থানার দুটি ও মতিঝিল থানার একটি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। আর পল্টন থানার তিনটি মামলায় সোমবার হাইকোর্টের জামিনাদেশ ছয় সপ্তাহের জন্য বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এই সময়ের মধ্যে ফখরুল চাইলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আপিল বিভাগ।
১৩ জুন চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


