বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নয়া মন্ত্রী কারা, মুখ খুলছেন না কেউ: অপেক্ষা শপথ পর্যন্ত

ministry2015071বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের উদ্যোগ চলছে। সোমবার ১৩ জুলাই এর প্রস্তুতি শুরু হয়। মঙ্গলবার ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পড়াবেন। নতুন করে পাঁচ মন্ত্রী শপথ নিতে যাচ্ছেন বলে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জানা গেছে। মন্ত্রিত্ব কারা পাচ্ছেন- তা নিয়ে সোমবার থেকে নানা তথ্য পাওয়া গেলেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। কেউ কেউ নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে জানান, বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়ন্ত্রণ করছেন; এখানে আমরা সবাই সবকিছু জানিও না। অপেক্ষা করেন, সন্ধ্যাতেই তো সব জানতে পারবেন।

মন্ত্রিসভা নয়া সদস্যদের মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হচ্ছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। এ ছাড়া নতুন করে প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন সাংসদ তারানা হালিম, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি ও লালমনিরহাটের সাংসদ নুরুজ্জামান আহমেদ।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র মঙ্গলবার দুপুরে জানায়, মন্ত্রিসভা পরিবর্তন-পরিবর্ধনের দায়িত্ব সম্পূর্ণই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তাই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের ব্যাপারে দায়িত্বশীল কেউ মুখ খুলছেন না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দুজনকে আজ ঢাকায় থাকার জন্য টেলিফোনে অনুরোধ করা হয়েছে। এঁরা হলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি ও সাংসদ তারানা হালিম।

মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তের প্রাথমিক এই তালিকায় রয়েছেন দীপু মনি, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আলাউদ্দিন নাসিমের নাম।

এদিকে, বর্তমান মন্ত্রীদের মধ্যে সমালোচনার মুখে থাকা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী বাদ যাচ্ছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে সদ্য দপ্তর হারানো মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নতুন দপ্তর পেতে পারেন বলেও একটি সূত্র বলছে।

সূত্র জানায়, সব ঠিকঠাক থাকলে মঙ্গলবার ১৪ জুলাই বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ গ্রহণ করাবেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার পুরোনোদের মধ্যে কারও কারও দপ্তর বদলও হতে পারে। তবে কেউ বাদ পড়বেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

প্রসঙ্গত, বর্তমান মন্ত্রিসভায় ২৯ জন মন্ত্রী, মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর একজন বিশেষ দূত ও পাঁচজন উপদেষ্টা, ১৮ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুজন উপমন্ত্রী রয়েছেন।

বর্তমান মন্ত্রিসভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ, স্বরাষ্ট্র, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী নেই। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্ব পাওয়া খন্দকার মোশাররফ হোসেন বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ওই বছরের ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। তখন অধিকাংশ পুরোনো মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত নতুন ও আগের সরকারের সময় দলের বাদ পড়া জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে সরকার গঠন করা হয়। ওই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী আরেক দফা তাঁর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করেন। সে সময় এ এইচ মাহমুদ আলীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নজরুল ইসলামকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য গত বছরের ১২ অক্টোবর আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে অপসারিত হন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দপ্তরবিহীন করা হয়।

বর্তমান মন্ত্রিসভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ, স্বরাষ্ট্র, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী নেই। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্ব পাওয়া খন্দকার মোশাররফ হোসেন বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মত ক্ষমতায় আসার পর ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। ওই বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি এ এইচ মাহমুদ আলীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নজরুল ইসলামকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর গত দেড় বছরে আর কোনো রদবদল আনেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
হজ নিয়ে বিতর্কিত এক মন্তব্যের কারণে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী গত বছরের ১২ অক্টোবর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে বাদ পড়েন। ওই পদ এখনও শূন্য।

গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব দেওয়া হয় মন্ত্রিসভারই আরেক সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন