বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

রাজাকার ফোরকান মল্লিকেরও ফাঁসির রায়

1437018701একাত্তরে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধে  অভিযুক্ত পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন অান্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুানাল-২। তার বিরুদ্ধে করা ৫টি অভিযোগের মধ্যে ৩টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ আদেশ দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ । এর মধ্যে ২টি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগের মধ্যে ৩টি প্রমাণিত হয়েছে। ৯৯ পৃষ্ঠা রায়ের সার-সংক্ষেপ পড়া হচ্ছে।  এর মধ্যে ২টি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।  ২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর এটি বিশতম রায়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিক মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে আটজনকে হত্যা, গণহত্যা, ৪ জনকে ধর্ষণ, ৩ জনকে ধর্মান্তরে বাধ্য করা, ১৩টি পরিবারকে দেশান্তরে বাধ্য করা, ৬৪টি বসতবাড়ি ও দোকানে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ- এ পাঁচটি অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ফোরকান মল্লিকের বিচার শুরু হয়।

২০০৯ সালে ২১ জুলাই পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানায় আবদুল হামিদ নামের এক ব্যক্তি ফোরকানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ২০১৪ সালের ২৫ জুন ফোরকানকে বরিশালের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করে পটুয়াখালীর গোয়েন্দা পুলিশ। ৩ জুলাই ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার গ্রেফতার দেখিয়ে ফোরকান মল্লিককে কারাগারে পাঠান। তার বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত করেন প্রসিকিউশনের তদন্ত কর্মকর্তা সত্যরঞ্জন রায়। ২ ডিসেম্বর ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।

প্রসিকিউশনের প্রারম্ভিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ১৯ জানুয়ারি শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ১৪ জন সাক্ষ্য দেন। অন্যদিকে ফোরকান মল্লিকের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন চারজন। পরে আসামিপক্ষে আবদুস সালাম খান ও প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

নিউজওয়ার্ল্ড বিডি ডটকম

আরও পড়ুন