বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

অচেনা ঢাকা, কোলাহল উধাও

Dhaka--অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে শহরটি সবকিছু করে ঈদ এলেই যেন সেই শহর পর হয়ে যায়! বছরের অন্যান্য সময়গুলোর চেয়ে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার চিত্র সম্পূর্ণ ‍বিপরীত। জনমানবহীন এক অচেনা নগরী। আর সন্ধ্যার নিয়ন আলোর ছায়ায় এক ভুতুরে নগরীতে রূপ নেয় সদা কর্মব্যস্ত ঢাকা। যারা প্রথমবার ঢাকায় ঈদ করছেন তাদের কাছে এ চিত্র নতুন মনে হলেও আদিবাসিন্দাদের জন্য দিনগুলো কাঙ্ক্ষিত। নিত্যদিনের কোলাহল ও যানজটমুক্ত এই সপ্তাহটির জন্য অনেকটাই উৎসুক হয়ে থাকেন ঢাকাবাসী। বছরে যেন দুইবার ঢাকাবাসী অপেক্ষায় থাকে কখন ঢাকা ফাঁকা হবে! সবমিলিয়ে প্রায় এক কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এবারো এর ব্যতিক্রম হয়নি। প্রিয়জনের সান্নিধ্য লাভে সপরিবারে গ্রামে গেছেন রাজধানীর অস্থায়ী মানুষগুলো। রাজধানী এখন ফাঁকা। এ যেন এক অচেনা নগরী। যে কারণে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোয় নেমে আসে সুনসান নিরবতা। বড় বড় শপিং মল ছাড়া প্রধান সড়কের অধিকাংশ দোকানগুলো বিকেলের পর থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় কর্মব্যস্ত মানুষের সাথে সাথে কমে যায় সবধরণের পরিবহনও।

দু-চারটি বাস-গাড়ির সশব্দে ছুটে চলা, রিকশার টুং টাং শব্দ, কিছু লোকের হেঁটে চলা এই ছিল শুক্রবার রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার চিত্র। প্রতিদিন যেসব এলাকা লাখো মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকে, কালো ধোঁয়া আর যানজট যে স্থানটিকে প্রায়ই স্তব্ধ করে তোলে, যেখানে মানুষের নিঃশ্বাস ফেলার ফুরসতটুকু নেই, সেসব এলাকাও সন্ধ্যার পর ভুতুরে পরিবেশে রূপ নেয়।

মিরপুরের বাসিন্দা রফিক আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিন রাজধানীতে যানজটের ধকল সইতে হয়। মিরপুর থেকে গুলিস্তান আসতেই প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। কিন্তু শুক্রবার আসতে মাত্র ২০ মিনিট সময় লেগেছে। রাস্তায় যানবাহনের চাপতো নেই-ই, নেই মানুষের ভিড়ও। বিষয়টি বেশ ভালোই লেগেছে। প্রতিদিনের ঢাকা যদি এমন হতো।’

এদিকে সুনসান এ নিরবতার সুযোগে প্রতিবছর অস্বাভাবিক হারে রাজধানীতে ছিনতাই ও চুরির ঘটনাও বেড়ে যায়। এ কারণে গোটা রাজধানীতেই আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন রাস্তায় বসানো হয়েছে পুলিশি চেকপোস্ট। এরপরও নাগরিকদের রাস্তাঘাটে চলাফেলা করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ‘এবার ঈদে রাজধানীর নিরাপত্তায় দুই স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি থাকবে কমিউনিটি ও বিট পুলিশ। ডিএমপির ৮টি ক্রাইম জোনে সক্রিয় থাকবে ৮ হাজার পুলিশ সদস্য। কমিউনিটি পুলিশের প্রায় ৩ হাজার সদস্যকে এবার ঈদের নিরাপত্তায় মাঠে নামানো হয়েছে। সেই সঙ্গে থাকবে এপিবিএন-এর ৫টি ব্যাটালিয়ন। প্রায় ২ হাজার পুলিশ সদস্য মোটরসাইকেলে টহল দেবে বিভিন্ন ক্রাইম পয়েন্টে।’

তিনি জানান, রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তার জন্য যা যা করা প্রয়োজন রাজধানীবাসীকে সম্পৃক্ত করে সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাই এবার গ্রহণ করা হয়েছে।

ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, ঈদে রাজধানীর নিরাপত্তায় টহল পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন মোড়ে থাকছে নিরাপত্তা তল্লাশী।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন