বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

দুই বাসের মুখোমুখি প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৭

Sirajgonj-Accident-যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ের মহাসড়কে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা মানুষকে পরিবহনের দুইটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

১৯ জুলাই রোববার ভোর পাঁচটার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে চট্টগ্রাম থেকে রংপুরগামী ‘সাব্বির হোসেন পরিবহন’ এবং গাইবান্ধা থেকে ঢাকাগামী ‘আজাদ পরিবহন’ এর বাস দুটির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের মূলিবাড়ি এলাকার ওই সংঘর্ষে চালকসহ এ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৭ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দুর্ঘটনায় আহত হন কমপক্ষে ৪৫ জন।

দুর্ঘটনার পর সকাল ৮টার দিকে ১৪ জনের লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২৪ জনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হলে নেওয়ার পথে আরও দুইজনের মৃত্যু হয় বলে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন দেবপ্রদ রায় জানান। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহত অনেককে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে সবাইকেই সদর হাসপাতালে আনা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ১৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন- আজাদ পরিবহনের চালক গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামের মেনহাজ প্রধান (২৮), একই উপজেলার মোহাদিপুর গ্রামের লিটন (৪২), আমিনুল ইসলাম (২৫), দুবলাগাড়ি গ্রামের মিলন (২২), গাইবান্ধা সদরের সবুজ (২০), বগুড়ার দুপচাচিয়া উপজেলার চামুর গ্রামের জিল্লুর রহমান (৪৬), দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর কৈবর্ত্যপাড়ার চান বাবু (২২), চিরিরবন্দর উপজেলার পূর্নতী গ্রামের বিপ্লব (২৩), রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পোড়াচাকলা কাশিমপুরের মোয়াজ্জেম হোসেনের অন্তঃস্বত্তা স্ত্রী মৌসুমী খাতুন (২০), বদরগঞ্জ উপজেলার নয়াপাড়ার আনোয়ারুল ইসলাম (১৯), রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কিশমত কাউলা গ্রামের আব্দুল কারি (৪৫), সোনারায় গ্রামের মফিজুর রহমান (৫০), তাম্বুল গ্রামের মাহাবুব (৪০) ও রুস্তম কারী (৮৫) এবং শিবগঞ্জ উপজেলার ভাটরা গ্রামের আবদুস সালাম (৫৪)।

এছাড়া জেলা শহরের কমিউনিটি ক্লিনিক, আভিসিনা ক্লিনিক, মেডিনোভা ক্লিনিক, মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকেও দুর্ঘটনায় আহতরা ভর্তি আছেন।

বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কেতাবগাঁও গ্রামের কাওসার (৪০), একই জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার শাহপাড়ার নেপাল চন্দ্র (৩০), দিনাজপুরের ফুলবাড়ির পাড়ইপাড়ার অসলামুজ্জামান (৩৪), সদরের সামাদ, নওগার বদলগাছি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বেলাল (৪৫) ও রাজ্জাক (৫০), বগুড়ার ধুনটের ইব্রাহিম (১৪), একই এলাকার ইনসাফ আলী (৩৫),শিবগঞ্জ উপজেলার ভানুপুরের মন্টু (৪৩) ও ভাটরা গ্রামের আবদুস সালাম (৫৪), নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পরাটারি গ্রামের কবির (২৪) ও সিরাজগঞ্জের বেলকুচির কৃষ্ণ (৩০), শহিদুল (৩৪), আমিনুল ইসলাম (৪৫), মেহেরাব (৩৪), অজ্ঞাত পরিচয়ের ৪০ বছর বয়সী এক পুরুষকে।

হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করে সেতু বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা ও বঙ্গবন্ধু সেতু থানার পুলিশ।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, সিভিল সার্জন ডা. দেবপ্রদ রায়, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্রেনজন চাম্বুগং, সেতু বিভাগের ট্রাফিক ম্যানেজার মুজাহিদ উদ্দিন এবং সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক নিজাম উদ্দিন।

জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন বলেন, “লাশ পরিবহনের জন্য জনপ্রতি ১০ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। আহতরা যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পায় সে বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে।”

পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন বলেন, “সাব্বির হোসেন পরিবহনের বাসটি রং-সাইড দিয়ে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি হয়েছে। পুলিশ বাস দুটি জব্দ করেছে।”

দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

কমিটির সদস্যরা হলেন-সহকারী জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়া উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেনজন চাম্বুগং, ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক নিজাম উদ্দিন।

সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন