বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বৃষ্টিতে ধস: চট্টগ্রামে ৬ জনের মৃত্যু

ctgma_78চট্টগ্রাম নগরীতে টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ও দেওয়াল ধসে পাঁচ শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। রবিবার ভোর নগরীর লালখান বাজার এবং শনিবার মধ্যরাতে বায়েজিদ থানার আমিন কলোনিতে ঘটনা দুটি ঘটে বলে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

লালখান বাজারের মতিঝর্ণার পোড়া কলোনিতে দেওয়াল ধসে মারা গেছেন মা-মেয়েসহ তিনজন।

নিহতরা হলেন মরিয়ম বেগম (২৯), তার মেয়ে সুরাইয়া আক্তার (২) এবং তাদের প্রতিবেশীর মেয়ে আঁখি নুর (৫)।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার তাহমিলুর রহমান জানান, রাত দেড়টার দিকে ঘরের দেয়াল ধসে পড়লে চাপা পড়েন তারা তিনজন।

অন্যদিকে রাত ২টার দিকে বায়েজিদের ট্যাংকির পাহাড়ের আমিন কলোনিতে ভূমিধসে মারা যান এক পরিবারের তিনটি শিশু।

তারা হল- পাইপ মিস্ত্রি মো. শাহাজানের মেয়ে বিবি মরিয়ম (দেড় বছর), সালমা (৫) ও ছেলে আরাফাত হেসেন ফরিদ (১২)।

তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন বলে হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন।

শাহজাহানের বাড়ি নোয়াখালী সদরের কাশিমপুর গ্রামে। তিনি পরিবার নিয়ে সম্প্রতি পাহাড়ে ওই অবৈধ বসতিতে ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন বলে স্থানীয়রা জানায়।

২০০৭ সালের জুন মাসে অতিবর্ষণের মধ্যে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে ১২৭ জন মারা গিয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবছরই বর্ষায় অবৈধ বসিত উচ্ছেদে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। এবারও অভিযান চলছে, তার মধ্যেই পাহাড় ধসে মারা গেল তিনটি শিশু।

রাতে দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিবারকে দাফনের জন্য ১০ হাজার টাকা করে দেন।

এদিকে চট্টগ্রাম নগরীতে ঈদের দিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টিতে নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।

ঈদের সকালে বৃষ্টি শুরু হলেও দুপুরে কয়েক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকাল থেকে চলে অঝোর বর্ষণ। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে বৃষ্টির বেগ।

ঈদে বেড়াতে বের হওয়া নগরবাসী নানা প্রান্তে আত্মীয়-স্বজনের বাসায় গিয়ে আটকা পড়েন প্রবল বৃষ্টির কারণে। আবার সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় গাড়ি নষ্ট হয়েও অনেকে ভোগান্তিতে পড়েন।

নগরীর হামজারবাগ এলাকা থেকে বড়পোল এলাকায় আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসে ফেরার সময় আগ্রাবাদ এক্সেস সড়কে নষ্ট হয়ে যায় চাকরিজীবী জাহিদুল আলমকে বহনকারী অটোরিকশাটি।

পরে পানি ডিঙিয়ে রাত ১০টার দিকে আবার বড়পোল এলাকায় আত্মীয়ের বাসায়ই ফিরতে হয় তাকে।

শনিবার রাত ১১টার পর নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস সড়ক, চকবাজার, মাস্টার পোল, দিদার মার্কেট, সাবেরিয়া, কাতালগঞ্জ, চাঁন্দগাও আবাসিক এলাকা, হালিশহর, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, আলমাস সিনেমা মোড়, ওয়াসা মোড়, কাপাসগোলা এবং বাকলিয়ার বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

এসব এলাকায় মূল সড়কের ওপর কোথাও হাঁটু পানি এবং কোথাও কোমর সমান পানি জমেছিল।

এদিকে পানির তোড়ে নগরীর রাবেয়া রহমান গলিতে নালার পাশে একটি কাঁচা ঘরে এক মধ্য বয়সী নারী আটকা পড়েন।

শনিবার রাত সাড়ে ১২টায় তাকে উদ্ধার করা হয় বলে দমকল বাহিনীর নন্দনকানন স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা আলী আকবর জানান।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা রেজাউল করিম খান বলেন, উপকূলে সঞ্চারনশীল মেঘমালার কারণে বৃষ্টি হচ্ছে। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে এ ধরনের বৃষ্টি হয়।

সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন