জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে রগ কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
১৯ জুলাই রোববার ঘটনাটি ঘটেছে পারইল ইউনিয়নের বোহার গ্রামে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করে স্থানীয় জামায়াত নেতা মোজাফ্ফর হোসেনের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত আমজাদ হোসেন (৩৫) রানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং বোহার গ্রামের কবেজ উদ্দিনের ছেলে।
এদিকে এ ঘটনার পর দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারী-পরুষসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে।
আহতরা হলেন- শফির উদ্দীন (৫৫) এবং তার পক্ষের নুর উদ্দীন (২৮), আব্দুর রহমান (৭০), হবিবর রহমান (৫৫) ও বুলু আহম্মেদ (৩২)।
আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যার পর এলাকাবাসী জামায়াত নেতার বাড়িতে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যার পর এলাকাবাসী জামায়াত নেতার বাড়িতে হামলা চালায় অপরপক্ষের আহতরা হলেন- আমজাদ হোসেন (৪০), মজনুর রহমান (৩৮), ফজলুর রহমান (৩০), নজরুল ইসলাম (২৬), আমজাদ হোসেনের মা আনোয়ারা (৬৫), স্ত্রী ফাইমা বিবি (৩০) ও মেয়ে লাকি আক্তার রিপা (১৮)। পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জামায়াত নেতা মোজাফ্ফর হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
রানীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ হিল জামান জানান, আমজাদ হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের বোহার দাখিল মাদ্রাসরা সুপার জামায়াত নেতা মোজাফ্ফর হোসেনের র্দীঘদিন ধরে ২৫ শতক মাঠের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
রোববার সকাল ৮টার দিকে আমজাদ হোসেন ওই জমিতে চাষ করার সময় মোজাফ্ফর তাকে বাধা দেন। পরে মোজাফ্ফরের নেতৃত্বে তার ২০/২৫ জন অনুসারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার উপর হামলা চালায়। তারা আমজাদের ডান পা গোড়ালির নিচে থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং বাম পায়ের রগ কেটে দেয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাদের উপরও হামলা চালানো হয়। এতে আমজাদের পক্ষের ৭/৮ জন আহত হয়। গ্রামবাসী আমজাদকে উদ্ধার করে প্রথমে পাশের আদমদিঘী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ পরিদর্শক জানান, এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত গ্রামবাসী মোজাফ্ফরের বাড়িসহ প্রতিপক্ষের কয়েকটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
খবর পেয়ে সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কে এল সরকার পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।


