অ্যাসজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের জন্য ৫০৯ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাত্র ৩৭ ওভারে ১০৩ রানেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে কার্ডিফে ১৬৯ রানে জিতে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। আগামী বুধবার ২২ জুলাই বার্মিংহামে শুরু হবে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের তৃতীয় টেস্ট।
রবিবার ১৯ জুলাই দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই হোঁচট খায় ইংল্যান্ড। অ্যাডাম লাইথের সঙ্গে অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকের উদ্বোধনী জুটির স্থায়ীত্ব ছিল মাত্র ৪.৩ ওভার।
মিচেল স্ট্যার্কের বলে উইকেটের পেছনে লাইথ (৭) পিটার নেভিলকে ক্যাচ দিলে ভাঙে ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি। এরপর মিচেল জনসনের পেস গোলায় পরাস্ত হন কুক। ব্যক্তিগত ১১ রানে নেভিলকে ক্যাচ দেন স্বাগতিক অধিনায়কও।
এরপর জনসন-স্ট্যার্কদের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়তে পারেনি ইংল্যান্ড। গ্যারি ব্যালান্স, ইয়ান বেলের দ্রুত বিদায় দলের বিপদ বাড়ায়। ইংল্যান্ডের দলীয় রান পঞ্চাশ পেরুনোর পর পরই বেন স্টোকস কোনো রান না করে আউট হন।
আর ২৯তম ওভারে জনসনের জোড়া আঘাতে জস বাটলার ও মইন আলির বিদায় নিলে ৬৪ রান উঠতেই সাত উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা।
অষ্টম উইকেট জুটিতে জো রুট ও স্টুয়ার্ট ব্রড মিলে ৩৭ রান তুলেছিলেন কিন্তু তা কেবল পঞ্চম দিনে ম্যাচটি নিয়ে যেতে পারেনি। ব্রডকে (২৫) অ্যাডাম ভোজেসের ক্যাচে পরিণত করে এ জুটি ভাঙেন নাথান লায়ন।
দলীয় ১০১ রানে ব্রডের পর বিদায় নেন রুটও। ৪৪ বলে ১৭ রান তোলা এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করেন জস হেইজেলউড। আর ৩৭তম ওভারের শেষ বলে জেমস অ্যান্ডারসনকে হেইজেলউড বোল্ড করলে অস্ট্রেলিয়ার চার দিনেই বিশাল ব্যবধানের জয় পায়।
অস্ট্রেলিয়ার জনসন তিনটি এবং হেইজেলউড ও লায়ন দুটি করে উইকেট নেন।
৮ উইকেটে ৫৬৬ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দুই উইকেটে ২৫৪ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংসও ঘোষণা করে মাইকেল ক্লার্কের দল।
আর নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ৩১২ রান তোলে ইংল্যান্ড।
এর আগে রোববার বিনা উইকেটে ১০৮ রান নিয়ে খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। আহত হয়ে দলীয় ১১৪ রানে মাঠ ছাড়েন ক্রিস রজার্স (অপরাজিত ৪৯)। মইনের বলে কুকের হাতে ধরা পড়ার আগে ৮৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন ডেভিড ওয়ার্নার।
প্রথম ইনিংসে দ্বিশতক করা স্টিভেন স্মিথ আউট হওয়ার আগে করেন ৫৮ রান। মার্শকে (২৭) নিয়ে দ্রুত কিছু রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক (৩২)।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪০০ রানের ব্যবধানে একবারই হেরেছিল ইংলিশরা, লর্ডসে ১৯৪৮ সালে। ৬৭ বছর পর নিজেদের ক্রিকেট তীর্থে আবারও বিশাল এক পরাজয়। সেই পরাজয় ৪০৯ রানের ব্যবধানে। এবার ৪০৫ রানে। দারুণভাবে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল অস্ট্রেলিয়া।
আরও কিছু লজ্জায় পড়তে যাচ্ছিল স্বাগতিকেরা। এত দীর্ঘ ইতিহাসে লর্ডসে ১০০-এর নিচে মাত্র চারবার অলআউট হয়েছে তারা। গত ২০ বছরে একবারও হয়নি। গত ১২৭ বছরে মাত্র দুবার এমন লজ্জায় পড়া ইংল্যান্ড আজ আরও একবার দুই অঙ্কের মধ্যে বাক্সপেটরা গোটাতে বসেছিল। মাত্র ৬৪ রানে হারিয়ে ফেলেছিল ৭ উইকেট। রীতিমতো থরহরিকম্প! শেষ পর্যন্ত ১০৩ রানে অলআউট।
এর আগে ২ উইকেটে ২৫৪ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫০৯ রান। মরীচিকার পিছে ছুটে কী লাভ? চার দিনেই খেল খতম। এই ম্যাচ থেকে দর্শকদের একটা জিনিসই উপহার দিয়েছে ইংল্যান্ড—এক দিনের ম্যাচ টিকিটের ‘রি-ফান্ড’!
২৭ রানে তিন উইকেট নিয়েছেন, এর পর প্রথম ইনিংস ৮৭ করা বেন স্টোকসকে রানের খাতা খোলার আগেই রান আউটের খাঁড়ায় ফেরানো। ইংলিশদের আসল সর্বনাশ করেছেন ‘চেনা শত্রু’ মিচেল জনসন। দুটো করে উইকেট হ্যাজেলউড আর নাথান লায়নের। ইংল্যান্ড যে ১০০-এর আগেই অলআউট হয়নি, এর জন্য ধন্যবাদ তারা দিতে পারে স্টুয়ার্ট ব্রডকে। নয়ে নেমে ১৭ বলে ২৫ করেছেন। ব্রডের ব্যাটেই এসেছে ইনিংস সর্বোচ্চ রান।
রানের দিক দিয়ে টেস্ট ইতিহাসের নবম বৃহত্তম জয় দিয়ে প্রথম ম্যাচের বদলা নিল অস্ট্রেলিয়া। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে এটি ইংলিশদের তৃতীয় বৃহত্তম পরাজয়, এই তিন হারের দুটোই লর্ডসে। ১০৩ লর্ডসে ইংল্যান্ডের পঞ্চম সর্বনিম্ন স্কোর। রানের দিক দিয়ে ১৮টি বৃহত্তম পরাজয়ের ১০টিই ইংল্যান্ডের।
স্পোর্টস ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


