চুরির উদ্দেশে নয়, ঘটনার দিন সকালে রাজনসহ শিশুরা ভ্যানগাড়িটি চালিয়ে খেলা করছিল। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানিয়েছে শিশু রাজন হত্যার আসামি চৌকিদার ময়না মিয়া।
২০ জুলাই সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সিলেট মহানগর হাকিম ৩য় আদালতে ময়নার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে আদালতের বিচারক আনোয়ারুল হক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সুরঞ্জিত তালুকদার এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাজনসহ শিশুরা ভ্যানগাড়িটি চালানোর চেষ্টা করছিলো। তবে চুরির উদ্দেশ্যে নয়। ময়নার বক্তব্যেই বোঝা গেছে তারা খেলা করার জন্য গাড়িটি চালাচ্ছিল।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ময়না গ্রেপ্তার হওয়া আসামিসহ জড়িত আরও কয়েকজনের নামসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা গোপন রাখা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে ময়না জানান, আলী হায়দারের একটি ভ্যানগাড়ি ঘটনার দিন টুকেরবাজার তেমুখি সংলগ্ন খাঁন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে রাখা ছিলো। ঘটনার দিন সকাল ৬টার দিকে রাজনসহ কয়েকটি শিশু ভ্যানগাড়িতে ওঠে। অপর এক ব্যক্তি ময়নাকে ডেকে বলে- তার ভ্যানগাড়ি নিয়ে যাচ্ছে।
এসময় ময়না শিশুদের তাড়া করলে অন্য শিশুরা দূরে সরে যায়। রাজন পালাতে পারেনি। এসময় রাজনকে ঝাঁপটে ধরে বেঁধে রাখে ময়না। ‘চোর’ ধরেছে বলে সে আলী হায়দারের বাড়িতে খবর পাঠায়। এরপর কামরুল, আলী হায়দার, মুহিত আলম, পাভেলসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে শিশু রাজনকে নির্মম নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে রাজনের মৃত্যু হয়। প্রথম দফায় নিজেও রাজনকে মারধর করে বলে উল্লেখ করে ময়না। স্বীকারোক্তিতে ময়না জানান, কামরুল, তার ভাই মুহিদুল ও পাভেল নামের এক যুবক এসে রাজনকে বেধড়ক মারপিট করে। তাদের মারপিটেই রাজন মারা যায়। তবে সে নিজেও মারধর করার সময় কামরুলদেরকে সহযোগিতা করেছে বলে আদালতে উল্লেখ করে।
গত ১৪ জুলাই রাতে রাজন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ময়না চৌকিদারকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দেয়। ১৫ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডের সময় শেষ হওয়ার আগেই ময়না আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
গত ৮ জুলাই সকালে চুরির অপবাদে সিলেটের কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডে ১৩ বছেরর শিশু সামিউল আলম রাজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওইদিন দুপুরে লাশসহ মুহিত আলমকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। নিহত রাজন কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী ভাইয়ারপাড় গ্রামের মাইক্রোবাস চালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে।
শিশু রাজনকে পেটানোর ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে নির্যাতনকারীরাই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও দেশ-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এজহারভুক্ত মোট ১০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে প্রধান নির্যাতনকারী কামরুল সৌদি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। দেশে গ্রেপ্তারকৃত ৯ জনের মধ্যে ৫জন রিমান্ডে রয়েছে।


