ইন্টারনেটভিত্তিক নানা সেবা ব্যবহার করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও উসকানি দেয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তির এ অপব্যবহার রোধে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইন্টারনেটভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
জানা গেছে, ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি), ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিফোনি সার্ভিস প্রোভাইডার (আইপিটিএসপি) ও সাইবার ক্যাফের লাইসেন্স প্রদানের আগে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন নেয়ার কথা বলেছে। এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এসব লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণের অনুরোধ করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদনক্রমে দেশে টেলিযোগাযোগ খাতে বিভিন্ন লাইসেন্স দেয় বিটিআরসি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর মন্ত্রণালয় থেকে ১২টি নেশনওয়াইড ও ১৬টি জোনাল আইএসপি, দুটি আইপিটিএসপি এবং সাতটি সাইবার ক্যাফের (আইএসপিসহ) আবেদন বিটিআরসিতে ফেরত পাঠানো হয়। এর বাইরে কমিশনে আরো সাতটি নেশনওয়াইড, ৩৮টি জোনাল ও ১১১টি সাইবার ক্যাফে (আইএসপিসহ) লাইসেন্সের আবেদন জমা রয়েছে।
তবে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া দীর্ঘ হবে বলে মনে করছে বিটিআরসি। কমিশনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যমান লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াতেই যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া লাইসেন্স প্রদানের পরও ইন্টারনেটভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রদানের আগে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন নেয়া যেতে পারে। সব প্রতিষ্ঠানের জন্য এ ব্যবস্থা চালু করা হলে দেশে মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ ব্যাহত হবে, যা সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে বাধা হিসেবে দেখা দিতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উন্মুক্ত লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় দেয়া এসব লাইসেন্সের জন্য আবেদন পাওয়ার পর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যাচাই-বাছাই করা হয়। এক্ষেত্রে আবেদনের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিশ্চিত করা হয়। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামাও নেয়া হয়। এছাড়া আবেদনপত্রের তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে বিটিআরসির একটি কমিটি কাজ করে। নতুন লাইসেন্সের আবেদন পেলে কমিটির দুজন সদস্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা পরিদর্শন করে সন্তোষজনক মতামত দিলে আবেদনটি মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। এ অনুমোদনসাপেক্ষে লাইসেন্স ইস্যু করে কমিশন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে তিন ধরনের তিন শতাধিক আইএসপি লাইসেন্স দিয়েছে কমিশন। আইপিটিএসপি লাইসেন্সের সংখ্যা ৪২। এর মধ্যে সেবা চালু রয়েছে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের। এছাড়া সাইবার ক্যাফেগুলোর জন্য লাইসেন্সিং কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে আইএসপি লাইসেন্সিং কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে সাইবার ক্যাফেগুলোকে। এ পর্যন্ত ২৫০ সাইবার ক্যাফে এ লাইসেন্সের আওতায় সেবা দিচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ইন্টারনেটভিত্তিক সেবাদানকারী এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় সবই দেশীয় উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। তুলনামূলক স্বল্প বিনিয়োগের আইএসপির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া ক্ষুদ্র পরিসরের এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণও সহজ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণে দ্রুততম সময়ে আইএসপি লাইসেন্স প্রদান করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১-এর ধারা ৩৬-এর উপধারা ৮ অনুযায়ী নতুন লাইসেন্সের আবেদন ১৮০ দিন বা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে আবেদন মঞ্জুর বা নামঞ্জুরের বিষয়টি জানাতে হয়।
বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে স্যাটেলাইট ও রেডিওর সম্প্রচারের ক্ষেত্রে তরঙ্গ বরাদ্দ দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন নিতে হয়। আর এসব ক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রদানে সময়ক্ষেপণ হয়।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


