সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হারানো মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বাসা থেকে ফেরত আসা চার শতাধিক ফাইল নিয়ে বিপাকে পড়েছে মন্ত্রণালয়। জরুরী ফাইলগুলো মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও তার একান্ত সচিবের (পিএস) দায়িত্ব পালনকারী অশোক মাধব রায় ও সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) সেলিম খান মন্ত্রীর তার বাসায় নিয়ে যেতেন। অশোক ও সেলিম যেগুলো প্রয়োজন মনে করতেন সেগুলো সই করাতেন, বাকিগুলো পড়ে থাকতো।
এত পরিমাণ ফাইল জমিয়ে রাখার বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আশরাফকে সরিয়ে দেওয়া জন্য বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বলেও মনে করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো।
গত ৯ জুলাই সৈয়দ আশরাফকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে দফতরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ১৬ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ।
তবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অবশ্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় হারানোর পর জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রচুর ফাইল যেত তার কাছে। স্থানীয় সরকারে নতুন মন্ত্রী আসার পর তিনি কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেননি। তাই হয়তো সেগুলো ফেরত গেছে।
বর্তমান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন ফাইল ফেরত আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এসেছে। তাতে জটিলতার কি হল। আপনারা জটিলতা দেখছেন কোথায়? কোনো সমস্যা নেই। আমরা এটা সমন্বয় করে নেব।’
সততার জন্য সৈয়দ আশরাফ প্রশংসিত হলেও তার বিরুদ্ধে অফিস না করার অভিযোগ রয়েছে। মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার একটি বড় মন্ত্রণালয়। এর রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন। পরিষদগুলোর হাজার হাজার চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যানসহ বিপুল পরিমাণ স্টাফ কাজ করে। একদিন আমার কাছে চার থেকে সাড়ে চারশ’ ফাইল আসত। স্থানীয় সরকার থেকে সরে যাওয়ার পর আমি আর ফাইলে হাত দেইনি। ফাইল নতুন মন্ত্রীর কাছে যাবে’ বলেন বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রী।
বলা হচ্ছে ফেরত আসা ফাইলের মধ্যে পাঁচ বছর আগের ফাইলও আছে- এ বিষয়ে আশরাফ বলেন, ‘তামাদি হওয়া ফাইল থাকতে পারে। তবে মনে হয় সব ফাইল একটিভ আছে।’
গত ৭ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের ৬ হাজার ৭৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প ওঠে। মন্ত্রী (সৈয়দ আশরাফ) না থাকায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ হন। সৈয়দ আশরাফকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেন সংশ্লিষ্টদের। মূলত এর দু’দিন পরই সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে।
গত মহাজোট সরকারের সময়েও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন আশরাফুল ইসলাম। সেই মেয়াদে মাত্র কয়েকদিন তিনি সচিবালয়ে অফিস করেছেন।
গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। সেই মন্ত্রিসভায়ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান সৈয়দ আশরাফ। এবার দায়িত্ব পাওয়ার পর একদিনও সচিবালয়ে নিজের দফতরে অফিস করেননি তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


