বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ছাত্রলীগ নেতা হত্যা মামলায় এমপি-মেয়রসহ সব আসামী খালাস

Nasir-1427612840শেখ হাসিনার জনসভায় এক ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, ফেনীর সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ ১৭ আসামির সবাই। চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ নুরুল হুদা বুধবার ২২ জুলাই এই রায় ঘোষণা করেন।

১৯৯৩ সালের ২৪ জানুয়ারি লালদীঘি মাঠে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় তৎকালীন নগর ছাত্রলীগের নেতা সুফিয়ান সিদ্দিকীর ওপর অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সুফিয়ান সিদ্দিকী কোতোয়ালি থানায় নাছিরসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ১৯৯৪ সালে এ মামলায় আসামিরা হাইকোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ নেন। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ তা প্রত্যাহার হয়। এ মামলায় গত ১ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন নাছির। ৬ এপ্রিল মামলার বাদীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। জেরাকালে বাদী দাবি করেন, তৎকালীন বিএনপি সরকারের চাপে মামলাটি করেছিলেন তিনি। ২২ বছর আগের এই মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

আ জ ম নাছির উদ্দিন, সাংসদ নিজাম হাজারী ছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২০ দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ হাসনী এ মামলায় আসামি ছিলেন।

১৯৯৩ সালের ২৪ জানুয়ারি নগরীর লালদীঘির মাঠে দলীয় সভানেত্রী শেখ ‍হাসিনার জনসভায় সেসময়ের নগর ছাত্রলীগ নেতা সুফিয়ান সিদ্দিকীর ওপর অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা হয়।

এ ঘটনায় সুফিয়ান সিদ্দিকী বাদী হয়ে নাছিরসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওই বছরের ৭ মার্চ সব আসামির বিরুদ্ধে ‍অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

মামলার ১২ সাক্ষীর মধ্যে আট জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সাক্ষীদের অধিকতর জেরার আবেদন করে আসামিপক্ষ।

ওই আবেদন নাকচ হলে এক আসামি উচ্চ আদালতে ১৯৯৪ সালে রিভিশন মামলা করেন। মামলা স্থগিত চেয়েও উচ্চ আদালতে আবেদন করেন এক আসামি। সেই থেকে মামলাটি স্থগিত ছিল।

স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর গত বছর মার্চ মাসে হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ রিভিশন মামলায় আদেশ দেন। এতে আগের আট সাক্ষীকে আবার জেরা ও ছয় মাসের মধ্যে মামলাটি শেষ করতে বলা হয়।

এক বছর পর ওই আদেশ চট্টগ্রামের আদালতে পৌঁছালে ৬ এপ্রিল শুনানি শুরু হয়। ২৮ এপ্রিল নির্বাচনে জিতে চট্টগ্রামের মেয়র হন নাছির।

তার বিরুদ্ধে এ মামলা ছাড়াও ১৯৯৩ সালের ১৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিকেলে তিন খুন, ১৯৯৪ সালে ইসলামিয়া কলেজে দুই খুন এবং ১৯৯৯ সালে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ছাত্রলীগের এক নেতাকে হত্যাচেষ্টার মামলা ছিল।

এর মধ্যে হত্যা মামলা দুটিতে তিনি বেকসুর খালাস এবং হত্যাচেষ্টা মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন বলে নির্বাচনের আগে দেওয়া হলফনামায় জানিয়েছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন