চট্টগ্রাম টেস্টে বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনেও বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে বৃষ্টি। সেই সঙ্গে আলোক স্বল্পতাও। যে কারণে এদিনেও খেলার অকাল সমাপ্তি হয়েছে। দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৬১ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকানরা। দিনশেষে ১৭ রানেে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৮ রানের লিড নিয়েছিল বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত গতিতেই রান তুলতে শুরু করেছেন অতিথি দলের দুই ওপেনার স্তিয়ান ভ্যান জিল ও ডিন অ্যালগার। দ্বিতীয় ইনিংসের ২১.১ ওভার ব্যাটিং করে ৬১ রান তুলেছে তারা। এরপরই আলোর স্বল্পতা ও বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে তৃতীয় দিনেও নির্ধারিত ওভার খেলার কোটা পূরণ হয়নি। প্রায় ২০ ওভার (৭০.২ ওভার) কম খেলা হয়েছে। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে খেলা হয়েছিল ৬৫ ওভার।
এর আগে অতিথিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ৩২৬ রানে। আগের দিনে (বুধবার) ৪ উইকেট হারিয়ে করা ১৭৯ রানের সংগ্রহ নিয়ে বৃহস্পতিবার খেলতে নেমেছিল স্বাগতিকরা। সাকিব আল হাসান ও লিটন কুমার দাসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শেষ অব্দি অলআউট হওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে ৩২৬ রান তুলতে পেরেছে মুশফিকবাহিনী। ফলে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ৭৮ রানের।
আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিক ও সাকিব বৃহস্পতিবার সকালে দেখেশুনেই ব্যাটিং শুরু করেছিলেন। তবে ডেল স্টেইনের বলে এলবিডব্লিউ আউট হয়ে মুশফিককে ক্রিজ ছাড়তে হয়েছে ব্যক্তিগত ২৮ রানে। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রান। সেখান থেকে দলীয় স্কোরকে ২৭৭ পর্যন্ত টেনে নিয়েছেন সাকিব-লিটন জুটি। সাকিব হাফসেঞ্চুরি মিস করলেও লিটন দেখা পেয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরির; করেছেন ৫০ রান।
ব্যক্তিগত ৪৭ রানে সাকিব আউট হলে দলীয় ২৭৭ রানে ৬ষ্ঠ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। আর সাকিবের এই আউটের সঙ্গে সঙ্গে বড় লিডের স্বপ্নটাও ধাক্কা খেয়েছে স্বাগতিকদের।
লাঞ্চের পর বৃষ্টিতে খেলা সাময়িক বন্ধ ছিল। বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে ফের ম্যাচ মাঠে গড়িয়েছে। নিজের নামের পাশে আরও ১৫ রান যোগ করে আউট হয়েছেন সাকিব। ৩ রানের জন্য টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম হাফসেঞ্চুরি মিস করেছেন তিনি। সাকিবের পর আউট হয়েছেন পেসার মোহাম্মদ শহীদ। তবে সাজঘরে ফেরার আগে ১৯ বলে ২৫ রানের কার্যকরী একটি ইনিংস উপহার দিয়েছেন তিনি।
সাকিব আউট হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য বড় লিড নেওয়ার শেষ ভরসা হয়ে ছিলেন লিটন কুমার দাস। কেননা, ব্যাটিং তালিকায় থাকা বাকিরা সবাই বোলার। ভালই ব্যাট করছিলেন লিটন। বিতীয়বারের মতো সাদা পোশাকে খেলতে নেমে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরিরও দেখা পেয়েছেন তিনি। কিন্তু হাফসেঞ্চুরি করার পরপরই হারমারের স্পিনে পরাস্ত হয়ে বাংলাদেশের অষ্টম উইকেট হিসেবে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তাকে। মুস্তাফিজ আর তাউজুলের পক্ষে স্টেইন-মর্কেলদের বিপক্ষে খুব বেশি সময় প্রতিরোধ গড়া সম্ভব হয়নি। ফলে ৩২৬ রানেই থেমেছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চাকা।
চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে বুধবার ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টির জন্য পুরো সময় খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে বৃষ্টির আগে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান তুলেছিল তারা। হাফসেঞ্চুরি পেয়েছেন তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ। তামিম ৫৭ ও মাহমুদউল্লাহ ৬৭ রান করেছেন।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ২৪৮ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪টি উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৩টি উইকেট পেয়েছেন জুবায়ের হোসেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস, ২৪৮/১০, ওভার ৮৩.৪ (বাভুমা ৫৪, প্লেসিস ৪৮, অ্যালগার ৪৭; মুস্তাফিজ ৪/৩৭, জুবায়ের ৩/৫৩)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস, ৩২৬/১০, ওভার ১১৬.১ (মাহমুদউল্লাহ ৬৭, তামিম ৫৭, লিটন ৫০, সাকিব ৪৭; স্টেইন ৩/৭৮, হারমার ৩/১০৫)
দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংস (ব্যাটিং), ৬১/০, ওভার ২১.১ (ভ্যান জিল ৩৩*, ডিন অ্যালগার ২৮* )
ক্রীড়া প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম থেকে
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


