বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শিশু রাজন হত্যা: পুলিশের ২ এসআই বরখাস্ত, ওসি প্রত্যাহার

Sylhet-Guilty-policeসিলেটে পিটুনিতে শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে শুক্রবার সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম ও জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আর একই থানার পরিদর্শক পদমর্যাদার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গত ৮ জুলাই শিশু সামিউলকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার পরপরই তার বাবা শেখ মো. আজিজুর রহমানের অভিযোগ পুলিশ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ উঠে।

গত ১৪ জুলাই জালালাবাদ থানার এসআই আমিনুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে মহানগর পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান ও মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএ রোকনউদ্দিন বৃহস্পতিবার রাতে ৪২৪ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ কমিশনারের কাছে জমা দেন। এতে পুলিশের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার পুলিশের এ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. রহমত উল্লাহ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গত বুধবার সিলেটে যান। ওই দিন বিকেলে তিনি শিশু সামিউলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। শুক্রবার দুপুরে তিনি ঢাকায় ফেরেন। ঢাকা আসার পথে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সামিউলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গাফিলতির জন্য দায়ী পুলিশকে ছাড় দেওয়া হবে না।

রাজনের বাবা আজিজুর রহমান অভিযোগ করেন, জালালাবাদ থানা পুলিশ ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে আমার ছেলে রাজনের হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, রাজনকে হত্যার পর বুধবার রাত ১০টার দিকে জালালাবাদ থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। আমাকে থানা থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় এসআই আমিনুল।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ৮ই জুলাই বুধবার সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে রাজনকে চুরির মিথ্যা অপবাদে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে সামিউল আলম রাজন মারা গেলে তার লাশ গুম করার চেষ্টাকালে জনতার হাতে আটক হয় মুহিদ আলম। ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেন জালালাবাদ থানার এসআই আমিনুল। পৈশাচিক নির্যাতনে রাজনের মৃত্যুর বিষয়ে পুরোপুরি অবহিত থাকার পরও ঐদিন সন্ধ্যায় জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই আমিনুলের সঙ্গে বৈঠক করে কামরুল ও মুহিত। চুক্তি হয় ১২ লাখ টাকার। ৬ লাখ টাকা হাতে পেয়ে জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই আমিনুল মামলার প্রধান আসামি কামরুলকে সৌদি আরব পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। বাকি ৬ লাখ টাকা হাতে পেলে জনতার হাতে আটকের পর গ্রেপ্তার হওয়া কামরুলের বড় ভাই মুহিত আলমকেও ছেড়ে দেবে বলে কথা দেয় পুলিশ। ১০ই জুলাই বিজি-৪০৪ যোগে সিলেট বিমানবন্দর ছাড়ে কামরুল। নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিতের দায়িত্ব পালন করেন ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন। হত্যাকাণ্ডের পর দুইদিন পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কোন উদ্যোগ না নিয়ে চুপ করে থাকে। কামরুলের দেশত্যাগ ও লেনদেনের ঘটনা একসময় ফাঁস হয়ে যায়। ১১ই জুলাই এলাকাবাসী ঘেরাও করে জালালাবাদ থানা। টনক নড়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিদের।

সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন