বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

আজ ছাত্রলীগের ২৮তম সম্মেলন

ZZZ-400x250চার বছর পর আজ শনিবার দেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৮তম সম্মেলন শুরু হচ্ছে। রাজধানূীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিতব্য দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে একদিকে যেমন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তেমনি অপর দিকে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হতে দিনরাত নানামুখী লবিং তদবিরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নেতারা। কখনো নেতারা প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিদের বাসাবাড়িতে গিয়ে ধরনা দিচ্ছেন, আবার কখনো প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনদের কাছে গিয়েও হাজির হচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর একটু সুনজর পেতে ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে গিয়েও সুপারিশ করছেন পদ প্রত্যাশীরা। সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে যেতেও ভুলছেন না প্রার্থীরা। এ দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনের কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হলেও ভোট নিয়ে অনেকটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন নেতারা। নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হলেও এখন পর্যন্ত তা চূড়ান্ত না হওয়ায় সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে এবার আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড সমঝোতার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

ইতোমধ্যে ছাত্রলীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শেষ হয়েছে। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ২৪২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন। এরমধ্যে সভাপতি পদে ৮০ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৬২ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, ভোট এবং সমঝোতা দুই ভাবেই সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সারা দেশ থেকে ১০১টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৯৮টি কমিটির কাউন্সিলরদের তালিকা কেন্দ্রীয় দফতরে জমা পড়েছে, যার প্রত্যেকটি কমিটিতে ২৫ জন করে কাউন্সিলর রয়েছেন। ইতোমধ্যে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে সারা দেশ থেকে প্রতিনিধিরা রাজধানীতে এসে ভিড় জমিয়েছেন। সম্মেলনকে ঘিরে সকাল থেকে রাত অবধি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে আড্ডা জমাচ্ছেন। নেতারা তাদের বলয়ের কর্মীদের নিয়ে খোশগল্পে মেতে উঠছেন। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে।

ছাত্রলীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদে এবার নির্বাচনের আশা ক্ষীণ। সমঝোতার মাধ্যমেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক করার সম্ভাবনা বেশি।কারণ হিসেবে ওই নেতারা বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হলে সম্মেলনের বেশ আগেই সাবেক সভাপতিদের মধ্য থেকে একজনকে প্রধান করে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড গঠন করে থাকে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড গঠন করা হয়নি। তাই সমঝোতার ভিত্তিতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক করার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে হচ্ছে। আর সমঝোতা হলে সাতটি বিভাগের যেকোনো দুটি থেকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক করা হবে। এক বিভাগ থেকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দুইজনই নির্ধারণ করা হবে না।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বয়সসীমা ২৯ বছর। এদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ, সমাজসেবা সম্পাদক কাজী এনায়েত, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এরশাদুর রহমান চৌধুরী, উপপ্রচার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাসেল, উপদফতর সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান সালাম, উপবেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আসিফ জামান রুপম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক রানা প্রমুখ।

এ দিকে ২৯ বছর বয়সসীমার ওপরের ত্যাগী, দক্ষ ও যোগ্য নেতারাও দৌড়ঝাঁপে পিছিয়ে নেই। তারা সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনদের কাছে ছুটে চলেছেন। সময়ে-অসময়ে হাজির হচ্ছেন বাসা কিংবা অফিসে। সংগঠনের জন্য তাদের ত্যাগের কথা তুলে ধরছেন। ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে বয়স বিবেচনার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সিনিয়র নেতারা। সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপে এগিয়ে রয়েছেন সহসভাপতি খোন্দকার তারেক রায়হান, জয়দেব নন্দী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম তরিকুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক শেখ রাসেল, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক প্রমুখ।

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন