বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক জাকির

BCL_New_Leaderক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন নির্বাচিত হয়েছেন। কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত এ দুই নেতা আগামী দুই বছরের জন্য ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকবেন।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দিনব্যাপী ভোটাভুটির পর গণনা শেষে  রবিবার ২৬ জুলাই রাত সোয়া ৮টার দিকে ফল ঘোষণা করেন কাউন্সিলের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুমন কুণ্ডু।

শনিবার সম্মেলন উদ্বোধন করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাই অনুসরণ করেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্র সংগঠনটি।

পরবর্তী দুই বছরের জন্য নতুন নেতা নির্বাচন করতে ছাত্রলীগের ১১০টি ইউনিটের মোট তিন হাজার ১৩৮ জন কাউন্সিলরের মধ্যে শেষ পর্যন্ত ভোট দেন দুই হাজার ৮১৯ জন।

ছাত্রলীগের হাল ধরতে সভাপতি পদে ১২ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ২৮ জন প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সভাপতি পদে সাইফুর ২৬৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী জাকির পান ২৬৭৬ ভোট।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় ছাত্রলীগের ২৮তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়নে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে।

সাইফুর রহমান সোহাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের এবং জাকির হোসাইন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁরা দুইজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রলীগ কমিটিতে ছিলেন। সোহাগের বাড়ি মাদারীপুর, আর জাকিরের বাড়ি মৌলভীবাজার।

দেশের প্রাচীনতম এ ছাত্রসংগঠনের নয়া নেতৃত্ব নির্বাচনে কেন্দ্রীয় কমিটি, কার্যনির্বাহী পরিষদ ও ১০৭টি জেলা ইউনিটের প্রতিনিধি মিলিয়ে মোট প্রায় তিন হাজার কাউন্সিলর ভোটে অংশ নিয়েছেন।

ভোটাভুটির মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের এ দৌঁড়ে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১০ জন। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন ২৮ জন।

ভোট শুরুর আগে রোববার সকাল ১০টার দিকে পদপ্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সম্মেলনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুমন কুণ্ডু, নির্বাচন কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও শেখ রাসেল।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজিত রায় নন্দী, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক শামীম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবালুর রহিম, ইসহাক আলী খান পান্না, নজরুল ইসলাম বাবু, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন যোগ দেন বলে জানা যায়।

প্রসঙ্গত, শুরুতে সভাপতি পদে ৬৪ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৪৯ জন পদপ্রার্থী ছিলেন। কিন্তু বৈঠকের পর ভোট শুরু আগ মুহূর্তে সভাপতি পদ থেকে ৫২ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে ১২১ জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন