বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

গাছের সঙ্গে দুই শিশুকে বেঁধে ‘মেকিং ছবি’: ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Satkhira_দুই শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সাজানো ছবি গণমাধ্যম ও ফেসবুকে প্রচার করে সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার অভিযোগে দুই সাংবাদিকসহ চারজনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার উপজেলার জয়নগর গ্রামের আব্দুল মাজেদ গাজীর ছেলে আনিছুর রহমান বাদী হয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ২০০৬ এর ৫৭(১) ধারায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৪২।

মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলার বাদঘাটা গ্রামের কলেজশিক্ষক ও স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক সামিউল মনির, গোবিন্দপুর গ্রামের সাংবাদিক রবিউল ইসলাম, গোপালপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ ও জয়নগর গ্রামের ইউনুছ গাজী।

বাদী জয়নগর গ্রামের আনিছুর রহমান তার মামলায় উল্লেখ করেন, আসামিরা মিথ্যা তথ্য সরবরাহকারী ও সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী। তারা পরস্পরের সহায়তায় ১৭ জুলাই উপজেলার জয়নগর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে মো. নাসিম (১০) ও ইসমাইল তরফদারের ছেলে মো. ইয়াছিনকে (৯) ইসমাইল তরফদারের বাড়ি থেকে কয়েক গজ দূরে একটি আমগাছের সঙ্গে রশি ও শিকল দিয়ে বেঁধে ছবি তোলে। পরে ওই ছবি ২১ জুলাই স্থানীয় দৈনিক পত্রদূত, ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়।

এই ছবি তারা শিশু নির্যাতন শিরোনামে প্রচার করায় তা সারাদেশে আলোচিত হয়। এতে রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এ মামলার সাক্ষী করা হয়েছে জয়নগর গ্রামের আবুল গাজী, গোলাম মোস্তফা, আবু মুসা, গোলাম হোসেন ও অজিয়ার গাজীকে।

গত ১৬ জুলাই শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের দুই শিশু ইয়াসিন (৮) ও নাসিমকে (৯) বাড়ির পাশের খেজুরপাতার বেড়া তুলে খেলা করার অভিযোগে মারপিট করে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে গ্রামের গোলাম মোস্তফা ও তার ছেলে গোলাম হোসেন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। ঘটনার ৬ দিন পর বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের মামলা হয়। এদিকে সাজানো ছবি ব্যবহার করার অভিযোগে চারজনের নামে সোমবার রাতে মামলা হয় শ্যামনগর থানায়। এর আগে শিশু দুটি তাদের স্বীকারোক্তিতে পুলিশকে জানায়, তাদের নির্যাতনের ঘটনার কয়েক দিন পর ভিন্ন একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ছবি তোলে রবিউল ও ইলিয়াস তরফদার। এই শিশুরাই বাড়ি থেকে বের করে দেয় দ্বিতীয় দফায় কথিত নির্যাতনে ব্যবহৃত রশি ও শিকল।

আরও পড়ুন