বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে সম্পত্তি বিক্রি হচ্ছে গোপনে

BOGRA-Palaceঅবিভক্ত পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী ও তার পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত বগুড়া নবাব প্যালেস ও সংলগ্ন সম্পত্তি গোপনে বিক্রির চেষ্টা চলছে। বিক্রির অযোগ্য এই ওয়াকফ সম্পত্তির বর্তমান বাজার মূল্য কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা হলেও তা মাত্র ১০-১৫ কোটি টাকায় বিক্রির ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে। নবাব পরিবারের পূর্বপুরুষরা এই ঐতিহ্য চিরস্থায়ীভাবে রক্ষার জন্য ওয়াকফ করে গেলেও তাদের বর্তমান প্রজন্ম ঐতিহ্যের প্রতীক এই প্যালেসটি বিক্রি করছেন। যদিও সবকিছু হচ্ছে খুব গোপনে।

সরকারি বিধি অনুযায়ী ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রি করা না গেলেও বগুড়ার একজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার পুত্র এই সম্পত্তি কিনতে আগ্রহী। ওই আওয়ামী লীগ নেতাই অবশ্য বিক্রির প্রক্রিয়া কিভাবে করা যায় তা দেখাশোনা করছেন বলেও সূত্রের খবর।

মরহুম মোহম্মদ আলীর বৈমাত্রীয় ভাই মরহুম ওমর আলী ওরফে জ্যাকি ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ এক দশকে নবাববাড়ির চত্বরের আশপাশের বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তি বিক্রি করে দেন। তিনি এ সময় নিজের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য এক পর্যায়ে ফ্রিডম পার্টিতে যোগ দেন। এ খবর জানতে পেরে বগুড়ার কিছু ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তি কানাডা থেকে মরহুম মোহম্মদ আলীর কনিষ্ঠপুত্র হামদে আলীকে বগুড়ায় এসে বসবাসের জন্য আহ্বান জানান। প্রায় একই সময়ে নবাব পরিবারের একাংশ ওয়াকফ প্রশাসনের কাছে ওমর আলী ওরফে জ্যাকির বিরুদ্ধে স্টেট পরিচালনায় অযোগ্যতা এবং বেসামাল জীবন-যাপনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে তাকে মোতাওয়াল্লী পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান।

অভিযোগের তদন্ত শেষে ওয়াকফ প্রশাসন রায়হান হাসান আলীকে (মরহুম মোহম্মদ আলীর নাতি) মোতাওয়াল্লী নিযুক্ত করেন। এ সময় ওয়াকফ সম্পত্তির কেনাবেচা, বিক্রি এবং নবাব প্যালেসের অভ্যন্তরে স্থাপিত মিউজিয়ামের আয়ের অংশীদারিত্ব নিয়ে ওমর আলী, হামদে আলী ও রায়হান হাসান আলীর মধ্যে ত্রিমুখী দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। ওমর আলী মারা গেলে বর্তমানে রায়হান হাসান আলী এবং হামদে আলীর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কিছুদিন আগে রানার সিটি কমপ্লেক্স নামের একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছে নবাব প্যালেসের একটি বিপুল অংশ পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে বিক্রি করে দেন হামদে আলী। ফলে স্টেটের অফিসিয়াল মোতওয়াল্লী রায়হান হাসান আলী ওই জমি বিক্রিকে অবৈধ দাবি করে হাইকোর্টে একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

নবাব প্যালেসে অবস্থিত মরহুম মোহাম্মদ আলীসহ তার আত্মীয়-স্বজনদের কবরসহ প্রতিটি কেনাবেচার সময় আসল মূল্য গোপন রেখে জমি রেজিস্ট্রেশন করা হয়ে কম মূল্য দেখিয়ে। ক্রেতা ও বিক্রেতা দু’পক্ষ থেকেই বিপুল পরিমাণ অর্থ ছিটিয়ে সবাইকে বশ করা হয়েছে। সব সময় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলকে ব্যবহার করা হয়েছে।

অতি সম্প্রতি প্যালেসের বাকি অংশটি বিক্রির জন্য যে আয়োজন করা হয়েছে তার অংশ হিসেবে গত রমজানের শেষের দিকে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা বগুড়ার নবাব প্যালেসে যান। সেখানে হামদে আলীর সঙ্গে প্যালেস বিক্রির বিষয় চূড়ান্ত করা হয়। প্যালেস থেকেই যুক্তরাজ্য প্রবাসী মরহুম মোহম্মদ আলীর বড় ছেলে হাম্মাদ আলীর সঙ্গেও কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়। লন্ডন থেকে বাংলাদেশে যাতায়াতের সব খরচও ওই আওয়ামী লীগ নেতাই বহন করবেন। কারণ ওই রাজনৈতিক ব্যবসায়ীর ছেলেই জমিটির ক্রেতা। বিষয়টি ক্রেতা ও বিক্রেতা দু’পক্ষই গোপন রেখেছেন কৌশলগত কারণে।

প্যালেসসহ নবাব এস্টেটের সম্পত্তি ওয়াকফভুক্ত বলে দাবি করেছেন বগুড়া ওয়াকফ স্টেটের ইন্সপেক্টর মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘রেকর্ড অনুযায়ী নবাববাড়ি ওয়াকফ সম্পত্তি। কাজেই এই সম্পত্তি কেনাবেচা আইনত সম্ভব নয়।’

বগুড়া নবাব প্যালেসের ম্যানেজার যাহেদুর রহমান লজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্যালেস বিক্রির বিষয়টি জানেন না বলে জানান। তবে প্যালেসে শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার যাওয়া এবং হামদে আলীর সঙ্গে বৈঠকের ঘটনাটি সঠিক বলে জানান। তিনি জানান, প্যালেস যেহেতু মোহম্মদ আলীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি তাই চাইলে এর বর্তমান মালিকরা বেচতেই পারেন।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন