ঢাকা ইস্টার্ন বাইপাস ও মেট্রোরেল রুট-১ নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা। ২৮ জুলাই মঙ্গলবার সকালে জাইকার সদর দপ্তরে সংস্থাটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডমিচি হিদেয়াকির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সাথে জাপান সফররত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি’র নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ বিষয়ে দুপক্ষ সম্মত হয়।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ঢাকা ইস্টার্ন বাইপাস ও মেট্রোরেল রুট-১ নির্মাণে অর্থায়নের প্রস্তাব ছাড়াও মেট্রোরেল রুট-৫, যমুনা নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ, পদ্মা সেতুর সাথে সংযুক্ত চরজানাজাত সংযোগ, ভাঙ্গা-ভাটিয়াপাড়া-কালনা সংযোগ সড়ক, পাঁচগাছি সেতু, সোনাপুর-সোনাগাজী-জোরারগাছ সড়ক নির্মাণে জাইকা’র মাধ্যমে জাপান সরকারের অর্থায়নের প্রস্তাব করেন।
মন্ত্রী ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে উত্তরা হতে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল-৬ নির্মাণ, ২য় কাঁচপুর, ২য় মেঘনা ও ২য় গোমতি সেতু নির্মাণ, ঢাকা মহানগরীর জন্য দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) হালনাগাদকরণ এবং ই-টিকেটিং এর ক্লিয়ারেন্স হাউস স্থাপনে জাইকা’র অর্থায়নের জন্য ধন্যবাদ জানান।
জাইকার পক্ষ হতে জানানো হয়, কৌশলগত পরিকল্পনা হালনাগাদকরণের পাশাপাশি মেট্রোরেল রুট-১ ও ইস্টার্ন বাইপাস নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। যমুনা নদীর উপর দিয়ে একটি রেলসেতু নির্মাণে জাপান সরকার অর্থায়ন করবে বলে এসময় জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনসহ অবকাঠামো ও সড়ক যোগাযোগ খাতের প্রকল্পসমূহ এগিয়ে নিতে জাইকা কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
এসময় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য জাপান সরকার ও জাপানের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বীকৃতি দানকারী প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম।
তিনি জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহ স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার কথা জানান। তিনি মেট্রোরেল-৬ এর কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়নে আন্তরিক প্রয়াস অব্যাহত রাখবেন বলে জানান।
জাইকার ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। দেশের রয়েছে বিশাল তরুণ শ্রমশক্তি। তিনি দেশের অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশের সাথে কাজ করার প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এসময় জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, বাংলাদেশ দূতাবাসের ইকোমিক মিনিস্টার ড. জীবন রঞ্জন মজুমদার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্মসচিব আবদুল মালেকসহ সফরকারী প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ডিএন


