একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর আপিলের চূড়ান্ত রায় ২৯ জুলাই বুধবার ঘোষণা করা হবে।
২৮ জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে খবরটি দেখা যায়। এতে বুধবার রায় ঘোষণার জন্য সাকা চৌধুরীর আপিল মামলাটি কার্যতালিকায় এক নম্বরে রাখা হয়েছে।
আপিল বিভাগের রায়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির দণ্ড বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
অপরদিকে ন্যায়বিচারের স্বার্থে সব দিক বিবেচনা করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা থেকে আদালত সাকা চৌধুরীকে খালাস দেবেন বলে মন্তব্য করেছেন তার প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।
এর আগে গত ৭ জুলাই উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য ২৯ জুলাই দিন ঠিক করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।
বেঞ্চের অপর তিন বিচারপতি হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আপিল বিভাগের পঞ্চম রায় হবে এটি।
গত ১ জুলাই সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর দুই দিন পরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী এস এম শাহজাহান আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
গত ১৬ জুন সাকা চৌধুরীর আপিল মামলার শুনানি শুরু হয়। প্রথমে শুনানি শুরু করে ট্রাইব্যুনালের রায়, সাক্ষীদের সাক্ষ্য এবং রায়সংক্রান্ত নথিপত্র (পেপারবুক) উপস্থাপন করেছে আসামিপক্ষ।
২০১৩ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির সাবেক এই সংসদ সদস্য সাকা চৌধুরীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই বছরের ২৯ অক্টোবর খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেন তিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় আপিল করেনি রাষ্ট্রপক্ষ।
ট্রাইব্যুনালে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ১৭টির পক্ষে সাক্ষী হাজির করে রাষ্ট্রপক্ষ। এগুলোর মধ্যে মোট ৯টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বাকি আটটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ যে ছয়টি অভিযোগের পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করেনি, সেগুলো থেকেও সাকা চৌধুরীকে খালাস দেয়া হয়।


