বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সালাউদ্দিনের আপিলের রায় নিয়ে নাশকতার শঙ্কা: নিরাপত্তা জোরদার

saka-lawমানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায় বুধবার ঘোষণা করা নিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশে নাশকতার শঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে রাজধানী ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সুপ্রীম কোর্টসহ ট্রাইব্যুনালের আশপাশের এলাকায় এদিন পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

রায় নিয়ে ‘নাশকতার’ আশঙ্কা করেছে একটি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি রায়কে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিচারকের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা করছে। এ ছাড়া ককটেল, পেট্রোলবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটতে পারে। বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন সহিংসতা চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

রাজধানীর নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হাইকোর্ট এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যে কোনো নাশকতা মোকাবেলায় পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। পোশাকে-সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া ককটেল, পেট্রোলবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হতে পারে। বিশেষ করে, যাত্রীবেশে বাসে উঠে গানপাউডার, পেট্রোলবোমার মাধ্যমে অগ্নিসংযোগ করা হতে পারে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও মোড়ে এবং অলি-গলিতে সালাউদ্দিনের সর্মথকরা মিছিল বের করে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টির লক্ষ্যে আকস্মিক গুজব ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করতে পারে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, উচ্চ আদালত ও আদালত সংশ্লিষ্ট বিচারপতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপরও হামলার আশঙ্কার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বিএনপি ও জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা বিশেষ করে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, সীতাকুণ্ড, সাতকানিয়া থানাসহ সমগ্র চট্টগ্রাম জেলা, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় নাশকতা চালাতে পারে সালাউদ্দিনের সমর্থকরা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-নোয়াখালী, ঢাকা-ময়মনসিংহসহ ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও রেলপথে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থী এবং জামায়াত-শিবির, নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবি, হিযবুত তাহরীর, হিযবুত তাওহীদ, আল্লাহর দল, আনাসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি), নতুন জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্ট (একিউআইএস), জুনুদ আল তাওহিদ ওয়াল খিলাফহসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন সহিংস কর্মকাণ্ড চালাতে পারে।

প্রতিবেদনে সুপ্রীম কোর্টসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আশপাশের এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর, বিভাগীয়, জেলা-উপজেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চত করতে বলা হয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়ে মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘যে কোনো বড় ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

প্র্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে বুধবার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে। ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন।

২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় সালাউদ্দিন কাদেরের খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করেন তার আইনজীবীরা।

আপিলের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক র‌্যাব (র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক মেজর মাকসুদুল আলম।

তিনি বলেন, ‘সাকা চৌধুরীর রায় ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আগে যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।’

মাকুসুদুল আলম বলেন, ‘বিশৃঙ্খলা রোধে র‌্যাব প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার আশঙ্কার বিষয়েও আমরা সচেতন আছি।’

আরও পড়ুন