মাঝারি শক্তির ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ ঝড়কেন্দ্রে ৮৮ কিলোমিটার গতি নিয়ে একই স্থানে স্থির হয়ে আছে। তবে খুব সামান্য পরিমাণ করে এগিয়ে বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আবহাওয়া দপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা ও দুপুর ১২টায় এটি একই অবস্থানে ছিল। সন্ধ্যার দিকে ‘কোমেন’ চট্টগ্রাম উপকূল পার হতে পারে। এরপর এটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলোতে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। ‘কোমেন’-এর অগ্রভাগ বুধবার মধ্যরাতেই কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন ও টেকনাফ উপকূলে আঘাত হেনে উত্তর-পূর্ব দিকে চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। এতে সেন্ট মার্টিনে গাছচাপায় একজন মারা গেছেন। পটুয়াখালীতে দুপুরের দিকে গাছচাপায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই দুপুর ১২টায় আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, ‘কোমেন’ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ–পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর–পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০৫ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ–পূর্বে অবস্থান করছিল। সকাল নয়টায়ও এটি একই অবস্থানে ছিল। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত এবং মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।
উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৫ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে তিন থেকে পাঁচ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম: ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে চট্টগ্রামে সাগর উত্তাল রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। কোমেন মোকাবিলায় প্রশাসন আশ্রয়কেন্দ্র খোলার পাশাপাশি উপকূলের লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। নগরের পতেঙ্গা সমুদ্র উপকূলের লোকজনকে সরিয়ে নিতে সিটি করপোরেশন ও রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে মাইকিং চলছে। সন্দ্বীপ, বাঁশখালী, আনোয়ারা, সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই উপজেলার উপকূলের লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসন সকালে জরুরি সভা করেছে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলার পাশাপাশি লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।
কক্সবাজার সদর, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া ও পেকুয়াসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ-ছয় হাজার লোককে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মহেশখালী: বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপজেলার উপকূলীয় দ্বীপ দর ঘাট, মাতার বাড়ি ও সোনাদিয়ার লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছে। দর ঘাটের অনেকে পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল নাসের বলেন, ১২৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এরই মধ্যে অনেককে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সেন্ট্রাল ডেস্ক সমন্বয়
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


