বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কিসের মধ্যবর্তী নির্বাচন, দল গোছাই বিএনপির বড় দায়

Khaleda_সরকার পতনের মাধ্যমে মধ্যবর্তী নির্বাচন নয়, দলকে ঢেলে সাজানোই এখন বিএনপির প্রধান কাজ। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই দলের চেয়ারপার্সন ও শীর্ষ নেতারা কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের একাধিক নেতা মন্তব্য করেছেন।

বিএনপি ও জোটের নেতারা বলেন, কিছু চিহ্নিত গণমাধ্যমকর্মী এবং বুদ্ধিজীবী দিয়ে সরকার অত্যন্ত সুকৌশলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। এটা সরকারের নতুন ফাঁদ বলেও নেতারা মন্তব্য করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ বিষয়ে বলেন, এ সরকার নিজেদের বৈধতার জন্যই আগাম বা মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে চাচ্ছে। ‘স্বঘোষিত’ এ সরকারের দেশ-বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাই জনরোষ থেকে বাঁচতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরকার নির্ধারিত মেয়াদের আগেই একটি নির্বাচন দেবে। সে নির্বাচনেও বিএনপিকে বাইরে রাখতে পারে ক্ষমতাসীনরা। এ জন্যই চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ সিনিয়র নেতাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে দায়ের মামলায় সাজা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। আবার দলের কাউকে ভাগিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করছে। কিন্তু এটা করে বিএনপি ভাঙতে পারবে না। কারণ বিএনপি একটি আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সারা দেশে এ দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী সমর্থক রয়েছে। বিএনপি থেকে সিনিয়র দু’চারজন নেতা চলে গেলেও কোনো ক্ষতি হবে না। যিনি যাবেন, তিনিই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, হারিয়ে যাবেন। অতীত ইতিহাস তাই বলে।

গয়েশ্বর বলেন, এ সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেনি। ক্ষমতা দখল করেছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে। তাই এ সরকার ভবিষ্যতে কখনোই গণতান্ত্রিক পথে হাঁটবে না। এর বিপরীতে তারা ক্ষমতায় থাকার জন্য যত ধরনের শক্তি প্রয়োগের দরকার তাই করবে। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তারা ব্যবহার করবে। সরকারের দমন নিপিড়নের কারণে সংগঠনকে ঢেলে সাজানো সহজ হবে না। তবু দলকে শক্তিশালী করার লক্ষে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে কাজ করতে হবে। গোঁজামিল দিয়ে সংগঠন গোছানো যাবে না। কিংবা ঢাকায় বসে পকেট কমিটি করলেও চলবে না। আগামী দিনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের মাধ্যমে কমিটি করতে হবে। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ত্যাগী নেতাদের সামনে নিয়ে আসাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এটা অনেক কঠিন কাজ। এটাই আমাদের করতেই হবে।

গয়েশ্বর রায় বলেন, গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা আমাদের সহ্য করতে হবে। আবার সাবধানও থাকতে হবে। গণমাধ্যমের কথা ধরে নেতাদের মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস গড়ে তোলা যাবে না। অনেক বুদ্ধিজীবীও বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এ সব ব্যপারে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস সৃষ্টি করতেই সরকার এসব করবে। সরকার তো বসেই আছে বিরোধী দলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য। তবে আমাদের সেই ফাঁদে পা দিলে চলবে না।

বিএনপি চেয়ারপার্সন এক উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকার নিজে বাঁচতেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবীর মাধ্যমে প্রচার করছে। যারা এসব বলছে তার সরকারের পক্ষেই প্রচার চালাচ্ছে। বিএনপি বা ২০ দলীয় জোটের বক্তব্য তা নয়। নির্বাচন বিষয়ে ২০ দলীয় জোট নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সন ইতিপূর্বে সংবাদ সম্মেলন করে ৭ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। ক’দিন আগে তিনি এক বক্তব্যেও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলেছেন।

তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, তত্ত্বাবধায়কে আপত্তি থাকলে ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ’ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। এখানে তিনি নির্দলীয় শব্দটি ব্যবহার করে নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়টিও জাস্টিফাই করেছেন। আর তার এ বক্তব্যও তিনি এর আগে প্রস্তাবিত সাত দফার আলোকে দিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিএনপি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই যাবে এমন এটি সঠিক নয়। যারা এমন বক্তব্য দিচ্ছেন বা বলছেন তারা বিএনপির চেয়ারপার্সনেরও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। আমার সামনেই চেয়ারপার্সন যখন এ বক্তব্যে পক্ষে যুক্তি শুনতে চাইলেন তখন তারা এর স্বপক্ষে কোন যুক্তি তুলে ধরতে পারেননি।

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও ২০ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়টি সরকার সত্যিকার অর্থে অনুধাবন করলে দেশের রাজনীতির জন্য সেটি হবে শুভ বিষয়। আর তা অনুধাবনে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক সংকট আরো ঘনিভূত হবে। দেশের বর্তমান বিদ্যমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানই একমাত্র পথ।

বিএনপির মুখপাত্র ও দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি মধ্যবর্তী নির্বাচন না, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দাবি করে আসছে। কারণ ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে যে প্রহসন হয়েছে, তা জনগণ মেনে নেয়নি। তাই দেশে নতুন নির্বাচন হতে হবে।

তিনি বলেন, একটি ভাল নির্বাচন হলে পরে যে সরকার গঠন হয়, তারা যদি কোনো সমস্যায় পড়ে বা জনগণ তাদের উপর থেকে সমর্থন সরিয়ে নেয়, তখন সেই সরকার মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়। বর্তমান সরকারতো কোনো ভোটের মাধ্যমেই ক্ষমতায় আসেনি। জনগণ তাদের ভোটও দেয়নি। তাই তাদের অবশ্যই নতুন একটি নির্বাচন দিতে হবে।

নির্বাচনের প্রস্ততি সম্পর্কে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আগে নির্বাচনের সম্ভাবনা আসুক। এখনওতো এসব কল্পনা।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন