বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ছাত্রলীগের ৬৭ নেতার পদত্যাগ

BCL-Manikganjমানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদিকুল ইসলাম সোহা ও সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক রুবেলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করলেন ৬৭ জন নেতাকর্মী। সভাপতি ও সম্পাদককে ছাত্রলীগের ইতিহাস বিনষ্টকারী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর জেলা ছাত্রলীগের ৬৭ জনের পদত্যাগের কপি শুক্রবার রাতে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের হাতে আসে।

ওই পদত্যাগপত্রে সহ-সভাপতি আব্দুলাহ আল মামুন, জামিল খান, শরীফুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, মেহফুজ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান ফিরোজ, হাসানুল জনী, সহ সম্পাদক তাপস সাহা, সাজেদুল ইসলাম, সাব্বির আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক শাহিন মির্জা, অর্থ সম্পাদক জুবায়ের মাহমুদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সৌরভ ঘোষসহ ৬৭ জনের স্বাক্ষর রয়েছে।

তবে জেলা ছাত্রলীগের অভিযুক্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে অনেককেই পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো দাবি করা হয়েছে, ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে গত ২৭ জুলাই জেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত মিছিলে হামলা ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সোহার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। জেলা ছাত্রলীগ কমিটির বিভিন্ন পদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি ধামকির পাশাপাশি মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের পদত্যাগে বাধ্য করছেন। এমনকি নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদেরও ভয়ভীতি, বাড়িঘরে আগুন দেয়ারও হুমকি দেয়া হয়েছে। জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি বাবুল সরকার ও যুবলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি আবুবক্কর সিদ্দিক খান এ ঘটনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সূত্রমতে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের তিনদিন পর সভাপতি পদে সাদিকুল ইসলাম ও সম্পাদক সাধারণ পদে এনামুল হকের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর চলতি বছরের ২৩ জুলাই জেলা ছাত্রলীগের ১৫৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। তবে ওই দিনই ছাত্রলীগের জেলা সভাপতি সাদিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এনামুল হকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বহিষ্কার চেয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জেলার সিনিয়র নেতারা সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

এরপর থেকেই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক গ্রুপে আর কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা আরেক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এনিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একাধিকবার দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা প্রতিপক্ষের হাতে মারধরের শিকার হয়েছে।

সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন