বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

এমপি পদ হারাচ্ছেন লতিফ সিদ্দিকী

latif-500x333এবার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ হারাতে যাচ্ছেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য স্পিকারকে দেয়া চিঠির ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশন (ইসি) পেয়েছে। এর আগে মন্ত্রী এবং দল আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হন লতিফ সিদ্দিকী।

নির্বাচন কমিশনার মো. জাবেদ আলী বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠি আমরা পেয়েছি। কমিশন থেকে আওয়ামী লীগ ও লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। রোববার উভয় পক্ষের জবাব দেওয়ার শেষ দিন।

তিনি জানান, তাদের বক্তব্য পাওয়ার পর দুই পক্ষকে শুনানির জন্য ডাকা হবে। এরপর সংবিধানের ৬৬ ও ৭০ ধারা অথবা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি, আদালতের রায় ও নির্দেশনা দেখে যথাযথ এবং গ্রহণযোগ্য রায় দেয়ার আশা রাখি। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার আর কোনো সুযোগ নেই।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জনগণ লতিফ সিদ্দিকীকে একটি দলের মার্কায় ভোট দিয়েছেন। দল যখন তাকে বহিষ্কার করে, তখন কীভাবে তিনি সংসদ সদস্য থাকেন? কোনোভাবেই লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ থাকার ব্যবস্থা নেই।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী মহানবী (সা.), হজ ও তাবলিগ জামাত সম্পর্কে বক্তব্য দিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেন। তার বক্তব্য নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ব্যাপক সমালোচনা ও বিক্ষোভের মুখে তাকে ১২ অক্টোবর প্রথমে মন্ত্রিসভা, পরে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যপদ থেকে অপসারণ করা হয়। সর্বশেষ দলের সাধারণ সদস্যপদ থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। ওই সময়ই তার সংসদ সদস্যপদ খারিজ চেয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। কিন্তু সে সময় চিঠি দিয়ে শুধু লতিফ সিদ্দিকীকে চূড়ান্ত বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। পরবর্তীকালে দল থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কারের বিষয়টি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় দীর্ঘ ৭ মাস ৪ দিন কারাভোগ শেষে ২৯ জুন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন লতিফ সিদ্দিকী। মুক্তির পর তিনি সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু দলের হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত না পাওয়ায় সংসদে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকেন তিনি। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে টাঙ্গাইল-৪ আসন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন লতিফ সিদ্দিকী।

আরও পড়ুন