দেশের বিভিন্ন মাধ্যমে মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুঞ্জন উঠলেও তা নাকচ করলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ বা সরকারের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও এ বিষয়ে আমার কোনো কথা হয়নি।’
তবে বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী যে কোনো সময় নির্বাচন আহ্বানের ক্ষমতা রাখেন, যোগ করেন তিনি।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শনিবার ১ আগস্ট দুপুরে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ সব কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাৎবার্ষিকী উদযাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এবার তার ৪০তম শাহাদত বার্ষিকী। সেজন্য জাতীয় শোক দিবসও ৪০ দিনব্যাপী পালন করা হবে। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারাদেশে দিবসটি পালন করবে। ইতোমধ্যে যুবলীগ শুক্রবারই কর্মসূচি পালন শুরু করেছে। আমরা আজকে (শনিবার) শুরু করেছি।’
বিএনপির নির্বাচন দাবি প্রসঙ্গে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আগামী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এই নির্বাচন (৫ জানুয়ারি) রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে থাকবে। তবে আমরা বারবার বলেছি, আগামী নির্বাচন হবে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী। আমরা আশাকরি, সবাই সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন বর্জন করা ভালো রাজনীতি নয়। বিএনপি আবার যদি নির্বাচন বর্জন করে, তাহলে তাদের অস্তিত্বই থাকবে না। আওয়ামী লীগ ইয়াহিয়া, জিয়া ও এরশাদের সামরিক সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নির্বাচন বর্জন করলে কোনো লাভ হবে না।’
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আপনি যদি জেনেও যান নির্বাচনে আপনার জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাহলেও আপনার নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত। কারণ, নির্বাচন বর্জন এখন আর রাজনীতিতে কার্যকর নয়। আপনারা (বিএনপি) আসুন, আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। আমরা আশাকরি, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে।’
শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনেই কারচুপি হয়নি দাবি করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করবেন, আগামী নির্বাচনও অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। মধ্যবর্তী নির্বাচন করার কোনো আলোচনাই আমাদের দলের মধ্যে হয় নাই। প্রধানমন্ত্রীও এই বিষয় নিয়ে আমার সাথে আলোচনা করেননি।’
তিনি বলেন, ‘প্রাইম মিনিস্টারের সাংবিধানিক ক্ষমতা আছে। তিনি যদি লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ করেন, সংসদ ভেঙ্গে নিয়ে নতুন নির্বাচন দিতে, তাহলে যেকোনো সময় নির্বাচন হতে পারে। এটা আমাদের সংবিধানের অংশ। সংবিধানে এই ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া আছে। তিনি যদি প্রয়োজন মনে করেন, যেকোনো সময় হবে। না হলে যথা সময়ে হবে। তিনি ইচ্ছা করলে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতেও পারেন, নাও পারেন। তবে আমরা আগামী সাধারণ নির্বাচনেরই প্রস্ততি নিচ্ছি।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রী বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ে এই সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদের পরই সাধারণ নির্বাচন হবে। আমরা বলেছি, পাঁচ বছরের মাথায় দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। প্রধানমন্ত্রীও সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।’
এ সময় ১৫ অগাস্ট বিএনপি চেয়ারপারস খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন না করারও তিনি পরামর্শ দেন।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা শনিবার দুপুর ১২টায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে শোকের মাসের কর্মসূচি শুরু করেন। এর আগে সেখানে দোয়া পাঠ করেন তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, টুঙ্গিপাড়া থেকে
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


