বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৪ সালে দেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য ৩১ জন অনাবাসী বাংলাদেশীকে এ্যাওয়ার্ড দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই প্রথমবারের মতো দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দু’টি এক্সচেঞ্জ হাউজকেও পুরস্কৃত করেছে।
এ উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেনিং একাডেমীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স এ্যাওয়ার্ড শিরোনামের ক্রেস্ট ও সনদপত্র হস্তান্তর করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে তাদের হাতে এ সম্মননা ক্রেস্ট তুলে দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড.আতিউর রহমান। এ সময় তিনি রেমিটেন্স আনয়নকারীদেরকে সত্যিকারের বীর আখ্যায়িত করে বলেন, তাদের পাঠানো অর্থ দেশের উন্নয়নে অভূতপূর্ব অবদান রাখছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তরফ থেকে সব ধরনের সহায়তারও আশ্বাস দেন তিনি। আর পুরস্কার প্রাপ্তদের দাবী, প্রবাসীদের বিনিয়োগের জন্য একটি বিশেষ ইপিজেড গঠনের।
গভর্নর বলেন, বিদেশ থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ ও খরচ কমাতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করার জন্য এনআরবি এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বর্তমানে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রিজার্ভ আছে, যা দিয়ে সাত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের দ্বিতীয়বারের মতো এ সম্মাননা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছরে ২৪ জন সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রদানকারীকে এ্যাওয়ার্ড দেয়।
এ উপলক্ষে শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে (বিবিটিএ) এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৪’ ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রবাসীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী ও নাজনীন সুলতানা। এ সময় দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা প্রাপ্ত এসব রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ও প্রবাসী বন্ডে বিনিয়োকারিরা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, রাশিয়া ও চীনে বসবাস করছেন।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ‘রেমিট্যান্স আহরণে এখন বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দেশের জিডিপির ৬ শতাংশ এবং এটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ৬০ শতাংশের বেশি। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত এ অর্থ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। রেমিট্যান্স প্রবাহের ফলে স্থানীয় চাহিদা বেড়ে চলেছে। ফলে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বাড়ছে।’


