প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের ওপরই হামলা ছিল না, এ হত্যাকাণ্ড ছিল পুরো জাতির প্রতি আঘাত।
স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। শনিবার ১ আগস্ট ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবন চত্বরে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুুনিরা চেয়েছিল যাতে বাঙালি জাতি আর কোনো দিন মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। নীলনকশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতাকে তারা ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করে।
কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন— আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
শেখ হাসিনা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৫ আগস্টের মাত্র ১৫ দিন আগে ছেলে জয় ও মেয়ে পুতুল এবং বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে জার্মানি যাই। আমরা ভাবতেও পারিনি যে, আমাদের জন্য এ রকম দুর্যোগ অপেক্ষা করছে।
তিনি জানান, খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমান ক্ষমতা কুক্ষিগত করে এবং তাকে দেশে ফিরতে বাধা দেয়। কিন্তু যখন আওয়ামী লীগ তাকে (শেখ হাসিনা) দলের সভাপতি নির্বাচিত করে, তখন তিনি সেসব প্রতিবন্ধকতা ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুনিচক্র একই সময়ে তিনটি বাড়িতে হামলা চালায় এবং ঠাণ্ডা মাথায় নিরিহ নারী ও শিশুসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে। এমনকি খুনিরা কৃষক লীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের এবং তার দুই মেয়ে, ছোট ছেলে, নাতিসহ বাড়ির আরো ১৬ জনকে হত্যা করে।
৪০ বছর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং ৪০তম জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কৃষক লীগ এ রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে।
– বাসস


