বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যবর্তী নয়, নতুন নির্বাচন চাই: বিএনপি

bnp-flagকোনো মধ্যবর্তী নির্বাচন নয়, নতুন নির্বাচন চাই। এমন দাবি জানিয়েছে সংসদের বাহিরে থাকা বিরোধী দল বিএনপি।

রোববার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের ব্যাপারে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন। বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রশ্ন তখনই আসে, যখন একটি নির্বাচিত সরকার তার জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য আগে-ভাবে একটি নির্বাচন দেয়। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে তা স্বাভাবিক নির্বাচন ছিল না। সেটা ছিল অস্বাভাবিক নির্বাচন। তাই কোনো মধ্যবর্তী নয়, আমরা নতুন নির্বাচনের দাবি করছি।

‘আগামী নির্বাচনে না গেলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকবে না’ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র সৈয়দ আশরাফুর ইসলামের এ বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপির এই মুখপাত্র রিপন বলেন, বিএনপির প্রতি সৈয়দ আশরাফের এমন সহানুভুতির জন্য ধন্যবাদ জানাই। তবে তাকে জানিয়ে রাখি, বিএনপির ধ্বংস বা বিলুপ্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ এই দলের নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের আদর্শে জেগে থাকবে।

জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপির ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসবে। সরকার বিএনপির নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মেনে নেবে। এমন আশা আর প্রত্যাশার কথা বলেন এই বিএনপিনেতা।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদ পুনর্ব্যক্ত করে আসাদুজ্জামান রিপন বলে, এর মাধ্যমে সরকার শিক্ষা নিয়ে বৈষম্য করছে। কিন্তু বিএনপি বিশ্বাস করে শিক্ষা কোনো পণ্য নয়। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাণিজ্যিক মনোবৃত্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি শিক্ষা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা সমর্থন করে না। ব্যক্তিগত লাভের প্রশ্ন না এলে ভ্যাটের প্রশ্ন আসতো না। সুতরাং উদ্যোক্তরা যেন শিক্ষাকে বাণিজ্যিকভাবে উৎসাহ না করে সেই আহ্বান জানাবো।

এ সরকার শিক্ষাবান্ধব নয়; দাবি করে তিনি বলেন, সরকার নিজেকে জনবান্ধব বলে দাবি করে। কিন্তু তারা শিক্ষা বা ছাত্রবান্ধব নয়। হলে ভ্যাট আরোপ করতো না। রাজস্ব বিভাগ থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তারা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। অর্থাৎ পদেপদে কিভাবে আরও করারোপ করা যায় সেই প্রক্রিয়া হচ্ছে।

রিপন বলেন, আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, সরকারের এই পদক্ষেপ গণবিরোধী আচরণ। এর মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে জনগণের কষ্ট বাড়বে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবো, ধনিক শ্রেণির দিকে না তাকিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের দিকে তাকান। কারণ পাবলিক প্রতিষ্ঠানগুলো আসন স্বল্পতার কারণে অনেক গরিব ছাত্রও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কষ্ট করে পড়াশোনা করে। বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার করে শিক্ষার সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দেন এই বিএনপিনেতা।

আরও পড়ুন