বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ধর্ষক শুক্কুর আলীকে মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই

Rape-Lawশিশু ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মানিকগঞ্জের শুক্কুর আলীকে প্রচলিত বিচারিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিলেও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) এক রিটের রিভিউতে তা বাতিল করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ শুক্কুর আলীর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন নিষ্পত্তি করে এই রায় দেন।

১৯৯৬ সালের ১১ জুন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের শুক্কুর আলী সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে। ওই সময় তার বয়স ছিল ১৪ বছর। ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে শুক্কুর আলীকে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ওই সময় তার বয়স ছিল ১৯ বছর।

বিচারিক আদালতের এই রায় বহাল রাখেন সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগও। এমনকি মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় পুনর্বিবেচনায়ও (রিভিউ) একই রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

এদিকে বিচারিক আদালত শুক্কুর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার এক বছর আগে ২০০০ সালে জাতীয় সংসদ ১৯৯৫ সালের আইনটি বাতিল করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ নামে আরেকটি আইন প্রণয়ন করে। ওই আইনে ধর্ষণের ফলে বা ধর্ষণের পর কাউকে হত্যা করা হলে তার শাস্তির বিধান রাখা হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু শুক্কুর আলীর বিচার হয় ১৯৯৫ সালের আইনে, যে আইনে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধের শাস্তির বিধান ছিল শুধুমাত্র মৃত্যুদণ্ড।

এ বিষয়টিকে সামনে এনে শুক্কুর আলীর পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। তারা এক দেশে দুই আইনের এই বিচার প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে। এ সংক্রান্ত ১৯৯৫ সালে প্রণীত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৬(২) ধারায় যেখানে শাস্তির বিধান ছিল কেবল মৃত্যুদণ্ড তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। হাইকোর্ট ২০১০ সালের ২ মার্চ ৬(২) ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। তবে হাইকোর্ট বিভাগ শুক্কুর আলীকে দেয়া রায়ের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।

পরে বিষয়টি আপিলে যাওয়ার পর গত ৫ মে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে শুক্কুর আলীর পূর্বেকার রায়ও বহাল রাখেন।

শুক্কুর আলীর দণ্ড বহাল রাখা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের এ রায়ের বিরুদ্ধে সম্প্রতি রিভিউ পিটিশন দায়ের করে ব্লাস্ট। সোমবার এ আবেদনের নিষ্পত্তি করে আদালত মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে শুক্কুর আলীকে।

এর আগে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০০১ সালের ১২ জুলাই শুক্কুর আলীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন মানিকগঞ্জের বিচারিক আদালত।

বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জেল আপিল দায়ের করেন শুক্কুর আলী। কিন্তু হাইকোর্ট তার আবেদন খারিজ করে দিয়ে ২০০৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ফাঁসির রায় বহাল রাখেন।

পরে ২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগও মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করেন শুক্কুর আলীর পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী এ বি এম বায়েজীদ। আপিল বিভাগ একই বছরের ৪ মে পুনর্বিবেচনার আবেদনও খারিজ করে দেন। রিভিউ খারিজের পর ২০০৫ সালে শুক্কুর আলীর মা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে একটি আবেদন জমা দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন