বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ফেলানীর ঘটনার পরিসমাপ্তি চায় ভারত

BSF-BGB-Delhi-Meeting-03-07-15উত্তরবঙ্গ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী হত্যার ঘটনার একটি পরিসমাপ্তি চায় ভারত। দুই পক্ষের জন্য সম্মানজনক একটি সমাধানে পৌঁছাতে তারা বাংলাদেশের সহযোগিতাও চেয়েছে।

সোমবার ৩ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের পাঁচ দিনের সম্মেলনের প্রথম দিনে বিএসএফের তরফ থেকে এ কথা বলা হয়েছে।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদর দপ্তরে এই বৈঠক শুরু হয়।

প্রথমদিনের আলোচনার পরই বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা বেঙ্গালুরু চলে যান একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ঘুরে দেখতে। বুধবার তাঁরা দিল্লি ফিরবেন। পরের দিন দুই বাহিনীর মধ্যে আলোচনার ‘নির্যাসে’ সই করবেন দুই মহাপরিচালক।

প্রথমদিনের বৈঠকে ভারতের দিক থেকে আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও সীমান্ত-হত্যা ও ফেলানী খাতুনের প্রসঙ্গ তুলেছে বাংলাদেশ। দুই দেশের সূত্র অনুযায়ী জানা গেছে, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালকদের বার্ষিক সম্মেলনে প্রসঙ্গটি তোলেন বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। ফেলানীর হত্যাকারী বিএসএফ জওয়ান অমিয় ঘোষের সাজা না হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই ক্ষতে প্রলেপ পড়া দরকার।

ফেলানী প্রসঙ্গে বিএসএফ প্রধান ডি কে পাঠক সম্মেলনে বলেন, সীমান্ত-হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনাই ভারতের লক্ষ্য। জওয়ানদের এই বিষয়ে কঠোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কখনো কখনো দুঃখজনক ঘটনা ঘটে যায়। আত্মরক্ষার্থেও অস্ত্র ব্যবহার করা হয় কখনো কখনো। অমিয় ঘোষ দ্বিতীয়বারের জন্য নির্দোষ প্রতিপন্ন হলেও বিচারবিভাগীয় সেই সিদ্ধান্ত বিএসএফের মহাপরিচালকের অনুমোদন এখনো পায়নি।

একটি সূত্র অনুযায়ী, ভারত চায় এই দুঃখজনক ঘটনাটি নিয়ে গড়ে ওঠা বিতর্কের অবসান ঘটুক। সে জন্য বাংলাদেশের সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বিজিবিপ্রধান মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক বিবৃতিতে সোমবার বলা হয় যে, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বার্ষিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের পক্ষে গুরুত্ব দেওয়া হয় সব ধরনের সীমান্ত-অপরাধের। জালটাকা, গরু পাচার, মাদক চোরাচালান বন্ধে কী করা যায় তা যেমন আলোচিত হয়, তেমনই সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম বন্ধেও সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে কথা হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রের খবর, বেলা দেড়টা পর্যন্ত খোলামেলা পরিবেশে আলোচনা চলে। ছিটমহল বিনিময়ের ফলে সীমান্তের নতুন চ্যালেঞ্জগুলো যৌথভাবে মোকাবিলা করার বিষয়ে কথাবার্তা হয়। এক বছর আগে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সময়কার অবস্থার কতটা উন্নতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হয়।

সম্মেলনে বাংলাদেশের ২২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। বিজিবির প্রতিনিধিদলটি গতকাল রোববার ভারতে গেছে। সম্মেলনে ভারতের ২৪ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএসএফের মহাপরিচালক ডি কে পাঠক।

নয়াদিল্লি প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন