লোকসভায় বিশৃঙ্খলার অভিযোগে কংগ্রেসের ২৫ সদস্যকে পাঁচ দিনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার ৩ আগস্ট বিকেলে লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন ‘তুমুল বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টির জন্য ওই সদস্যদের বহিষ্কার করেন।
এত জন সাংসদকে একসঙ্গে সাসপেন্ড করার নজির সংসদের ইতিহাসে খুব কমই আছে। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
এই ঘটনায় দুই চির বিবদমান দল সিপিএম-তৃণমূলকে পাশে পেয়েছে কংগ্রেস। কিছুটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের পাশে দাঁড়িয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বলেন, “গণতন্ত্রকে বাঁচানোর স্বার্থেই সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের পাশে দাঁড়িয়েছে দল।”
তৃণমূল ঘোষণা করেছে আগামী পাঁচ দিন তারা লোকসভা বয়কট করবে। আম আদমি পার্টিও কংগ্রেসের সুরে সুর মিলিয়েছে। আম আদমি পার্টি পাঁচদিনের জন্য সংসদ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বহিষ্কৃত সদস্যরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাশাপাশি তুমুল হট্টগোল করছিলেন। স্পিকার বারবার সভার ভেতরে কংগ্রেস সদস্যদের প্ল্যাকার্ড বহন ও স্লোগান দিতে নিষেধ করার পরও ওই আইনপ্রণেতারা তাঁদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান। শেষে বিকেল ৪টার দিকে লোকসভার সদস্যদের বহিষ্কারের ঘোষণা দেন স্পিকার।
বহিষ্কারের ঘোষণার পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারকে ব্যাপারটিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করেন। কিন্তু স্পিকার তা শোনেননি। বহিষ্কারের পরই আজকের অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন স্পিকার।
ভারতের লোক ও বিধানসভার চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর পর বারবার বিরোধীদের হস্তক্ষেপে ব্যাহত হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, সিপিআইএম এবং তৃণমূল কংগ্রেস মিলে কখনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ইস্তফার দাবিতে, কখনো রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে ও মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ চৌহানের ইস্তফার দাবিতে বিরোধীরা সংসদ উত্তাল করে কার্যত অধিবেশন অচল করে দিয়েছেন।
এর মধ্যেই সোমবার সকালে সংসদের জট কাটাতে সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই অধিবেশনে কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বলেছিলেন, বিজেপির ‘অভিযুক্ত’ তিন নেতাকে সরানোর আগ পর্যন্ত প্রতিবাদ চলবে।
এর আগে গত দুই সপ্তাহে সংসদ সচল রাখার জন্য অন্তত তিনবার সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন স্পিকার। সুমিত্রা মহাজন নিজে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে সবাইকে অনুরোধ করেও ফল হয়নি।
এর আগে ২০১৪ সালেও লোকসভায় ‘নজিরবিহীন’ সংঘর্ষে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ১৮ সংসদ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। বহুল আলোচিত তেলেঙ্গানা রাজ্য বিল নিয়ে বিরোধের জেরে সংসদ সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে হাতাহাতিতে, মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপের পর জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করার পদক্ষেপ নেন স্পিকার ।
এর আগে ১৯৮৯-এ ঠক্কর কমিশনের রিপোর্ট পেশ নিয়ে ৫৮ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে।
এদিকে ললিত মোদি ঘটনায় রাজ্যসভায় আত্মপক্ষ সমর্থন করলেন সুষমা স্বরাজ। বললেন, প্রাক্তন আইপিএল চেয়ারম্যানের বিদেশযাত্রার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে তিনি কোনও কূটনৈতিক ভিসার আবেদন জানাননি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। সোমবারও বিরোধীদের চরম বিক্ষোভের মাঝে নিজের বক্তব্য পেশ করার চেষ্টা করেন বিদেশমন্ত্রী। কিন্তু ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ চলতে থাকায় সুষমা স্বরাজের বক্তব্য চলাকালীনই অধিবেশন মুলতুবি করে দেন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান পি জে কুরিয়ন।
বন্যায় মৃতদের শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু হয় লোকসভায়। কিন্তু বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভে দুটো পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায় অধিবেশন।
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


