বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রস্তাবিত পে-স্কেলে নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে

brton2প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলে সন্তুষ্ট নন সরকারি কর্মচারীরা। তাদের পক্ষ থেকে এই অসস্তুষ্টির কথাটি জানিয়ে দেয়া হয়েছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে। সোমবার সচিবালয়ে নন-গেজেটেড কর্মচারীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ’ নেতারা অর্থমন্ত্রীর সাথে দেখা করে বলেন, প্রস্তাবিত নতুন বেতন স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দ্বি-গুণ হওয়ার কথা বলা হলেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা হতাশাগ্রস্ত ও বৈষম্যের শিকার। ফলে তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। আর তারা যেহেতু প্রমোশন পান না তাই টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল হলে সাড়ে ১২ লাখ কর্মচারী বৈষম্যের শিকার হবেন। তারা ন্যূনতম বেতন ১০ হাজার টাকা করারও দাবি জানান।

তবে তাদের এই বক্তব্যের সাথে মোটেও একমত পোষণ করেননি অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, অসন্তোষ বললে এটা ভুল বলা হবে। টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না থাকলেও সরকারি কর্মচারীদের উদ্বিগ্ন ও হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ এখন থেকে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত হবেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলসংক্রান্ত প্রতিবেদন এ মাসেই মন্ত্রিসভায় উঠবে। বৈঠকে সংগঠনের নেতারা নতুন পে-স্কেল নিয়ে তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। সংগঠনের সভাপতি মো. হানিফ ভূঁইয়া ও মহাসচিব মো. রেজাউল মোস্তফা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২৭ জুলাই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলসংক্রান্ত প্রতিবেদন আগামী সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে।

বৈঠক শেষে এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করলে বেশ খানিকটা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এ কথা বলিনি। আপনারাই ভুল বলছেন। সোমবারটা একেবারে আপনাদের সৃষ্টি। আমি বলেছি, এটা আগস্ট মাসেই মন্ত্রিসভায় উঠবে এবং একই সাথে আমি এটাও বলেছি যে, আমি তখনো ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাইনি।’

১৬টি গ্রেড, ন্যূনতম বেতন ১০ হাজার ও আর্থিক ব্যবধান এক হাজার টাকা দাবি অর্থমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎকালে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ’ নেতারা তাদের লিখিত বক্তব্যে প্রস্তাবিত বেতন স্কেলে বৈষম্য দূরীকরণ, টাইম স্কেল বহাল রাখা ও শতভাগ সিলেকশন গ্রেড প্রদানের দাবি জানান।

এ ছাড়া সচিবালয়ের বাইরে ও সচিবালয়ে কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যে পদোন্নতির বৈষম্য দূরীকরণ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে বৈষম্য বিলোপ করে সংবিধান অনুযায়ী সবাই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী এই মতবাদ প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী ছয় সদস্যের হিসাবে পে-স্কেল প্রদানেরও কথা বলেন।

তবে অর্থমন্ত্রীর সাথে আলোচনা শেষে পরিষদ নেতাদের মূল দাবি দাঁড়ায় তিনটি। সেগুলো হচ্ছেÑ প্রস্তাবিত বেতন স্কেলে গ্রেড সংখ্যা ১৬টি রাখা, ন্যূনতম বেতন আট হাজার ২৫০ টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং প্রতিটি গ্রেডের মধ্যে বেতন পার্থক্য এক হাজার টাকায় উন্নীত করা।

বক্তব্যের পক্ষে পরিষদ নেতারা বলেন, কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত ১০টি গ্রেডে মোট আর্থিক ব্যবধান চার হাজার ২০০ টাকা (৮,২৫০ টাকা থেকে ১২,০৫০ টাকা)। অন্য দিকে কর্মকর্তাদের জন্য ১০টি গ্রেডে মোট আর্থিক ব্যবধান ৫৯ হাজার টাকা (১৬,০০০ টাকা থেকে ৭৫,০০০ টাকা)। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনের মধ্যে পার্থক্য মেনে নিলেও আর্থিক পার্থক্যটি একটি বড় ধরনের বৈষম্য বলে উল্লেখ করেন তারা।

এ ছাড়া কর্মচারীদের প্রতিটি গ্রেডে বেতন পার্থক্য মাত্র ২ শ’ থেকে ৩ শ’ টাকা। অন্য দিকে কর্মকর্তাদের প্রতিটি গ্রেডে বেতন পার্থক্য আট হাজার থেকে ১১ হাজার টাকা। এটাও এক ধরনের বৈষম্য। কর্মচারীদের প্রতিটি গ্রেডে বেতন পার্থক্য অন্তত এক হাজার টাকা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন পরিষদ নেতারা।

পরিষদ নেতাদের কিছু কিছু বক্তব্যের সাথে দ্বি-মত পোষণ করলেও তাদের শেষোক্ত তিনটি দাবির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেখি কী করা যায়’। ‘নতুন পে-স্কেলে বৈষম্য কমবে’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন হচ্ছে চার হাজার ১ শ’ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা। পে-কমিশন এটা যথাক্রমে আট হাজার ২ শ’ টাকা ও ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু সচিব কমিটি সর্বনিম্ন বেতন ৫০ টাকা বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ বেতন কমিয়ে ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বেতন পার্থক্য সব সময়েই ছিল। এটা নতুন কিছু নয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন