বৈধপথে রেমিটেন্সকে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড চালু করেছে। তবে এই পদক এবার দুই হুন্ডি ব্যবসায়ীকে দেওয়ায় গোটা ফরেন কারেন্সি ব্যবসায় তোলপাড় তৈরি হয়েছে। অন্যরাও বলছেন, বৈধপথে ডলার না এনে তো এদের মতো হুন্ডি করলেই ভালো!
রেমিট্যান্স দেশে আনতে প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে এদের দুইজনকে পদক দেওয়া হয়, যাদের আসলে মানি চেঞ্জারের কোনো বৈধ লাইসেন্সই নেই! এই সেক্টরে তারা পরিচিত হুন্ডি ব্যবসায়ী হিসেবে।
হুন্ডিকে দেশের অর্থনীতির জন্য কালো থাবা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশীদের কষ্টার্জিত অর্থ বৈধপথে এনে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে প্রতি বছর রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। অথচ দুই হুন্ডি-ব্যবসায়ীকে ‘রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৩’ প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
বৈধপথে অর্থ পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৩ সালে ৩১ প্রবাসীকে পুরস্কৃত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে মাহতাবুর রহমান ও আনোয়ারুল হক নামে দুই হুন্ডি-ব্যবসায়ীকেও পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, “২০১৩ সালে এই দুই ব্যক্তিকে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে এটা সত্য। আমাদের ‘যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নির্বাচন বিষয়ক কমিটি’ এই দুই ব্যক্তিকে নির্বাচিত করেছিলেন।”
পরে দুদক থেকে তাদের বিষয়ে অভিযোগ এসেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
এই বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলামুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক কাদের রেমিট্যান্স এ্যাওয়ার্ড দেয় তা আমাদের জানা নেই। তবে কেউ যদি হুন্ডি-ব্যবসায়ী হয় তবে তা তদন্ত করে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক মো. মাহতাবুর রহমান (নাসির) মানি চেঞ্জার বা রেমিট্যান্স আদান-প্রদানের বৈধ লাইসেন্সধারী নন, তথাপি তিনি সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, বার্মা এবং চীনের সাথে লাখ লাখ ডলার লেনদেন করেন। এই সকল অর্থের কিছু অংশ টিটি (টেলিফোনিক ট্রান্সফার) এবং এলসি’ (পণ্য আমদানি মূল্য পরিশোধের জন্য খোলা ঋণপত্র) মাধ্যমে সম্পাদন করলেও অবশিষ্ট অংশ করা হয়ে থাকে হুন্ডির মাধ্যমে।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মাহতাবুর রহমান ১৯৮৫ সালে বিমানবন্দরে ৮০ হাজার ডলারসহ গ্রেফতার হন এবং ২০০৯ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন তার কাছে সিঙ্গাপুরে টিটি মারফত অর্থ প্রেরণের কারণ ব্যাখ্যাসহ দলিলাদি চাইলে তিনি তা দাখিল করতে ব্যর্থ হন।
বিষয়টি জানিয়ে ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হারপুর সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল হক, ২০১৩-১৪ সালে প্রায়শই বৃহদাংকের অর্থ মোট ৩৪.১৩ কোটি জমা এবং মোট ৪০.৪ কোটি উত্তোলন করা হয়েছে। গ্রাহকের ব্যক্তি হিসাবটিতে সম্পাদিত লেনদেন তার সম্পাদিত লেনদেন তার সম্ভাব্য লেনদেনের ঘোষণার সাথে অসামাঞ্জ্যপূর্ণ।
পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই সকল বৃহৎ লেনদেনের তথ্য চাইলে হারপুর সিকিউরিটিজের গ্রাহক মো. আনোয়ারুল হক এ সকল লেনদেনের তথ্য প্রদানে অনীহা প্রকাশ করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


