নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে সিলেটে ১৩ বছরের শিশু রাজন হত্যা, খুলনায় পায়ুপথে বাতাস দিয়ে ১২ বছরের শিশু মো. রাকিব হত্যার পর এবার বরগুনায় ১১ বছরের শিশু রবিউল আউয়ালকে হত্যা করা হয়েছে- যা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। শিশুটির চোখ উপড়ে এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গত ১ মাসে তিন শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। যেন শিশুহত্যার মহোৎসব লেগেছে।
গত সোমবার থেকে নিখোঁজ ছিল রবিউল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।
রবিউলের বাবা দুলাল হোসেন বলেন, গত সোমবার রাত ৮টায় উপজেলার আমখোলা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয় রবিউল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সেই রাত অবধি তাকে পাওয়া যায়নি। এর পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন ছোট আমখোলা এলাকার একটি মাছের ঘেরে রবিউলের লাশ পড়ে থাকতে দেখে। এর পর পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে। শিশুটির চোখ ওপড়ানো ছিল এবং তার চোয়ালের নিচে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
রবিউলের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, আমখোলা গ্রামের মিরাজ হোসেন আমখোলা খালে চাঁই ও জাল পেতে নিয়মিত মাছ ধরে। কয়েক দিন আগে মিরাজের চাঁই থেকে মাছ চুরি হয়। তিনি এর জন্য রবিউলকে সন্দেহ করেন। এ নিয়ে ঘটনার দুদিন আগে মিরাজ রবিউলের বাড়িতে এসে পুনরায় এমন ঘটনা ঘটলে রবিউলকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। সোমবার রাতেও মিরাজ রবিউলকে খোঁজাখুঁজি করেছে বলে পরিবার থেকে জানানো হয়।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আকতার বলেন, এ ঘটনায় রবিউলের বাবা দুলাল হোসেন থানায় অভিযোগ করেছেন। পুলিশ অভিযুক্ত মিরাজ ও তার বাবা দেলোয়ারকে আটক করেছে। বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাকও আজ বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই মঙ্গলবার সিলেটে ১৩ বছরের শিশু সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এর ক্ষত কাটতে না কাটতেই ৩ আগস্ট সোমবার খুলনায় ১২ বছরের শিশু মো. রাকিবকে পায়ুপথে পাইপ দিয়ে হাওয়া ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়।


